কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৫ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার জন্য উল্লেখিত সময়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আব্দুল রহমান 'মোক্তার'(৪৫) সহ মমিনুল ইসলাম (৪৩) ঘটনাস্থল বা নিজ বাড়িতে অনুপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটিকে ডেকে নিয়ে সন্ধ্যায় বাড়ির গেটের ভিতরে নিয়ে ধ/র্ষ/ণে/র চেষ্টা চালানো হয় বলে দাবি করে তার পরিবার সহ ভুক্তভোগী শিশুটি। বিষয়টি জানতে পেরে ভুক্তভোগীর অভিভাবক ন্যায়বিচারের দাবিতে রাজারহাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের পরপরই বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনার সত্যতা যাচাই করার জন্য গত সোমবার ৩ আগস্ট ২০২৬ইং রাতে তদন্ত করেছেন এবং তদন্তের অংশ হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রযুক্তিগত তথ্যাদি পর্যালোচনা করে জানা যায়, ঘটনার যে সময় ও তারিখ অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সেই সময়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বাড়িতে বা ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে সোমনারায়নের ডাকাত পাড়া গ্রামের পুস্নাত এবং বুধারু'র বাড়িতে ৪:৩০ মিনিট থেকে ৭ পর্যন্ত আব্দুল রহমান 'মোক্তার' অবস্থান করেছিলেন এবং মমিনুল ইসলাম মাছ ধরার জন্য একটি বিলে ছিলেন।
এবিষয়ে রাজারহাট থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুনুর রশীদ এবং স্থানীয় তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী পরিবার যে সময়ে ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি করেছিল, পুলিশি তদন্ত ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা যায় সেই নির্দিষ্ট সময়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে বা তাদের নিজেদের বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। ওসির বক্তব্য অনুযায়ী, উভয় পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত শত্রুতা ছিল।
একটি 'চেক জালিয়াতি' মামলা থেকে বাঁচতে এবং প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ সাজানো হয়েছিল। ঘটনাটি মিথ্যা ও বানোয়াট প্রমাণিত হওয়ায় পুলিশ এই অভিযোগের ভিত্তিতে মূল মামলাটি গ্রহণ করেনি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, কোনো নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করার উদ্দেশ্য তাদের।
E-mail:dailysamadhan24@gmail.com
© 2026 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | DailySamadhan.com