বর্ষার জলে যখন মাঠ-ঘাট একাকার, তখন সেই জলের বুকজুড়ে প্রকৃতি যেন এঁকে দিয়েছে গোলাপি-লালের নান্দনিক । কোথাও ফুটে আছে কচি গোলাপি পদ্ম, কোথাও পূর্ণ প্রস্ফুটিত লালচে ফুল। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে দুলছে অসংখ্য পদ্ম। দূর থেকে মনে হয়, পানির ওপর বিছানো হয়েছে সবুজের গালিচা, তার ওপর ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে রঙিন ফুলের পসরা। এমনই এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের দেখা মিলেছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার সোনাকান্ত বিলে।
প্রায় দুই বছর পর এবার অসংখ্য পদ্মফুলে সেজেছে উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের আমডাঙ্গা গ্রামের পাশের এই বিল। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রতিদিনই প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ নিভৃতে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় করছেন বিলপাড়ে। মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ধারণ করছেন পদ্মে ভরা বিলের ছবি ও ভিডিও।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ বিঘা নিচু জমি নিয়ে সোনাকান্ত বিলের বিস্তৃতি। ব্যক্তিমালিকানাধীন এসব জমি বর্ষায় পানিতে তলিয়ে গিয়ে বিলে পরিণত হয়। বছরের অন্য সময়ে সেখানে ইরি-বোরো ধানের আবাদ হলেও বর্ষাকালে পানির রাজত্বে জমিগুলো হয়ে ওঠে জলজ উদ্ভিদের স্বর্গরাজ্য। বিলের জমির মালিক সড়াতৈল, আমডাঙ্গা, অলিপুর ও বাগদা গ্রামের বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২২ সালে সোনাকান্ত বিলে কিছু পদ্মফুল ফুটেছিল। তবে তখন ফুলের সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম। পরের বছর বন্যা না হওয়ায় পদ্মের বিস্তারও তেমন দেখা যায়নি। এবার বড় ধরনের বন্যা না হলেও টানা ও প্রচুর বৃষ্টিতে বিলের নিচু জমিতে পর্যাপ্ত পানি জমে যায়। অনুকূল পরিবেশ পেয়ে পদ্মগাছগুলো দ্রুত বিস্তার লাভ করে। ফলে এবার পুরো বিলজুড়েই যেন পদ্মের উৎসব শুরু হয়েছে।
সড়াতৈল গ্রামের বাসিন্দা সেকেন্দার আলী বলেন, প্রতিবছরে এমন দিনে এই বিলে পদ্ম ফুলের সমাহার দেখা দেয়। এতে করে এলাকার পরিবেশ খুব সুন্দর লাগে বিভিন্ন এলাকার লোকজন এই পদ্মফুলকে দেখার জন্য এই বিলে আসেন । বছর ঘুরে যেন এখানে একটি মিলনমেলা শুরু হয়। আমি সরকারের কাছে আবেদন করি এই বিলটিকে আরো সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া দরকার। এক কথায় পদ্মবিলকে পর্যটক হিসেবে ব্যবহার করলে সরকার অনেক লাভবান হবেন ।
E-mail:dailysamadhan24@gmail.com
© 2026 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | DailySamadhan.com