জন্ম থেকেই ডান হাতের কনুইয়ের নিচের অংশ নেই। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতা দমাতে পারেনি জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থী মো. হুজাইফা মোল্লাকে। বাম হাত দিয়েই লিখে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন তিনি। এবার এইচএসসি পরীক্ষাও দিয়েছেন বিজ্ঞান বিভাগ থেকে। ফলাফল নিয়েও আশাবাদী হুজাইফা।
তার স্বপ্ন একজন প্রকৌশলী (ইঞ্জিনিয়ার) হওয়া। তবে সেই স্বপ্নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা এখন পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা। ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কোচিংয়ে ভর্তি হতে চাইলেও অর্থাভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না।
হুজাইফা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ভানুকান্দা গ্রামের মো. মঞ্জুর রহমানের বড় ছেলে। চার সন্তানের সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তার বাবা, যিনি স্থানীয় একটি মসজিদের মোয়াজ্জিন। সামান্য আয়ে পরিবারের নিত্যপ্রয়োজন মেটাতেই হিমশিম খেতে হয় তাকে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দেড় শতক বসতভিটা ছাড়া তাদের আর কোনো জমিজমা নেই। প্রায় আট বছর ধরে হুজাইফা প্রতিবন্ধী ভাতা পেলেও উচ্চশিক্ষার ব্যয় মেটাতে তা যথেষ্ট নয়। এর আগে আক্কেলপুরের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কলেজে ভর্তির জন্য তাকে আর্থিক সহায়তা করেছিলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করা হলেও এখনো উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা মেলেনি বলে জানিয়েছে পরিবার।
হুজাইফার বাবা মঞ্জুর রহমান বলেন, ছেলের পড়াশোনার প্রতি অনেক আগ্রহ। এতদিন কষ্ট করে পড়িয়েছি, কিন্তু এখন ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি পরীক্ষার কোচিং ও পড়াশোনার খরচ বহন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
হুজাইফা বলেন, আমি ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই। পড়াশোনায় কোনো সমস্যা নেই, শুধু অর্থের অভাবে ভালো প্রস্তুতি নিতে পারছি না। সহযোগিতা পেলে স্বপ্ন পূরণের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মাসুদ রানা প্রধান বলেন, প্রতিবন্ধী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে। হুজাইফার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
জেলা প্রশাসক মো. আল-মামুন মিয়া জানান, বিষয়টি নিয়ে এখনো তার কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন পৌঁছায়নি। আবেদন পেলে তা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
E-mail:dailysamadhan24@gmail.com
© 2026 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | DailySamadhan.com