সরকারের অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে জনগণকে মাশুল দিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর পল্টন মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচির লিফলেট বিতরণপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে তিনি পল্টন মোড়, দৈনিক বাংলা ও ফকিরাপুল এলাকায় লিফলেট বিতরণ করেন এবং আগামী শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চে ঢাকাবাসীকে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, একদিকে গ্যাস, বিদ্যুৎ, তেল ও সারের সংকট; অন্যদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি জনগণের ওপর পড়ছে। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে বলে সরকারের তথ্য উপদেষ্টা স্বীকার করলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
লংমার্চের গুরুত্ব তুলে ধরে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ-এই ছয় দফা দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেট অভিমুখে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে।
নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলগুলো জনগণের গণদাবি আদায়ে সংসদে চেষ্টা করছে। কিন্তু সরকার বারবার এসব দাবি উপেক্ষা করছে। সংসদে গণদাবি আদায় না হলে রাজপথে তা আদায় করা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের মতো সর্বস্তরে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, চব্বিশের বিপ্লব-পরবর্তী জনগণের আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ। কিন্তু সরকার সর্বস্তরে দলীয়করণ করছে। জেলা পরিষদ থেকে শুরু করে সিটি করপোরেশনগুলোতে দলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় লোকজনকে ভিসি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। স্কুল-কলেজও দলীয় লোকদের দিয়ে দখল করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এর ফলে সৎ, যোগ্য ও মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, পতিত আওয়ামী লীগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে জনগণের ওপর গুলি চালিয়েছে। এতে জনগণের কাছে যেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল ভেঙে গেছে। অপরদিকে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। প্রশাসন অপরাধীদের আটক করলে সেখানে সরকারদলীয় নেতারা প্রভাব বিস্তার করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বিএনপি শুধু সংসদ নির্বাচন মেনে নিয়ে ক্ষমতায় বসেছে। গণভোটের রায় মেনে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করার সিদ্ধান্তের কারণে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেনি বলেও দাবি করেন তিনি। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কার করতে হবে। গণভোটের রায় সরকারকে বাস্তবায়ন করতেই হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শাহীন আহমেদ খানসহ মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
E-mail:dailysamadhan24@gmail.com
© 2026 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | DailySamadhan.com