কোনো কারণ দেখানো ছাড়াই বাংলাদেশ ক্রিসেন্ট সোসাইটির (বিডিআরসিএস) আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ব্যবস্থাপনা পরিষদ নির্বাচনের জন্য গঠিত নির্বাচন কমিশন বাতিল করে দিয়েছেন সোসাইটির চেয়ারম্যান। একই সাথে ব্যবস্থাপনা পরিষদ নির্বাচন ও বিশেষ সাধারণ সভাও বাতিল করে দেয়া হয়েছে। গত ১০ সেপ্টেমর প্রধান নির্বাচন কমিশনার ফরহাদ আহাম্মদ খান, নির্বাচন কমিশনার মুশফীক আহাম্মদ ও নির্বাচন কমিশনার ডা. মো: এমদাদুল হককে সোসাইটির প্যাডে লিখিত চিঠি থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
উল্লেখ্য, গত ৭ সেপ্টেম্বর রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নির্বাচনী কর্মকান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল। ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদে মনোনয়নপত্র কিনে তা দাখিলও করেছিলেন প্রার্থীরা। এমতাবস্থায় কমিশন, বিশেষ সাধারণ সভা ও নির্বাচন বাতিল করে দেয়ায় প্রতিটি প্রার্থী এখন প্রচন্ড ক্ষুব্ধ। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নির্বাচনের একজন প্রার্থী নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, নির্বাচন ঘোষনা করার পর একক সিদ্ধান্তে সোসাইটির চেয়ারম্যান নির্বাচন কমিশন অথবা নির্বাচন বাতিল করতে পারেন না। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নির্বাচনী বিধি-বিধান অথবা কোনো আইনে নির্বাচন ঘোষনা করার পর চেয়ারম্যানের একক সিদ্ধান্তে তা নির্বাচন বাতিলের কোনো সুযোগই নেই।’ ওই প্রার্থী নয়া দিগন্তকে জানান, ‘এককভাবে কোনো কিছু পরিবর্তন অথবা অনুমোদন দেয়ার ক্ষমতাও চেয়ারম্যানের নেই। কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে বোর্ডের অনুমোদনতো লাগেই এমনকি ভাইস চেয়ারম্যান ও কোষাধ্যক্ষেরও অনুমোদন লাগে। এমতাবস্থায় চেয়ারম্যান তার একক ক্ষমতাবলে নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন ও বিশেষ সাধারণ সভা বাতিল করে দিতে পারেন না।’
‘আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নির্বাচন কমিশন, বিশেষ সাধারণ সভা ও নির্বাচন বাতিল করে দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন বাতিল করে দেয়ার একক ক্ষমতা চেয়ারম্যান হিসেবে আপনার আছে কি না’ জানতে চাইলে গতকাল রোববার বিডিআরসিএস’র চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো: আব্দুস সালাম নয়া দিগন্তকে বলেন, নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন বাতিল করে দেয়ার ক্ষমতা চেয়ারম্যানের আছে।’ তবে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ৬৮টির বেশি ইউনিট (প্রকৃত পক্ষে ৪টি সিটি করপোরেশনসহ ৭২টি ইউনিট) রয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি ইউনিটের নির্বাচন হয়েছে। বাকীগুলো এডহক ভিত্তিতে আছে। আমরা চাচ্ছিলাম সবগুলো ইউনিটের নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর কোনো সুবিধাজনক সময়ে ব্যবস্থাপনা পরিষদের নির্বাচন হোক। তবে নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন বাতিল বিধি অনুযায়ীই করা হয়েছে।’ কোন্ বিধিতে বাতিল করেছেন তিনি তা সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেননি।
এ প্রসঙ্গে আরেকজন নির্বাচনী প্রার্থী জানিয়েছেন, ৩৭ ইউনিটে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে, এটা ঠিক। কিন্তু বাকী ইউনিটগুলোতে নির্বাচন হয়নি তাতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন হওয়ায় কোনো সমস্যা নেই। এর আগে এমন নজির রয়েছে। তাছাড়া, বাকী ইউনিটগুলোতে নির্বাচন হওয়ার পরও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বোর্ড সভায় আলোচনার ভিত্তিতেই নির্বাচনী তারিখ ঘোষনা করা হয়েছে। বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত তিনি এককভাবে বাতিল করতেই পারেন না।’
E-mail:dailysamadhan24@gmail.com
© 2026 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | DailySamadhan.com