তাৎক্ষণিক চিকিৎসা রোগ সারানোর গতানুগতিক ধারণায় ডেঙ্গু ও হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। দীর্ঘমেয়াদি ও সুসংহত নগর পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য তাগিদ দিয়ে তারা বলেছেন, ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থা (জিআইএস) ও ড্রোন বেইজড ম্যাপিং প্রযুক্তির মাধ্যমে এইডিস মশার উৎসস্থল খুঁজে বের করার প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়াতে হবে।
গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) আয়োজিত ‘হাম ও ডেঙ্গু: জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নগর পরিকল্পনার ভূমিকা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ পরামর্শ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন বিআইপির সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইপির সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। এছাড়া বক্তব্য রাখেন বিআইপির সহ-সভাপতি পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান, কোষাধ্যক্ষ পরিকল্পনাবিদ আবু ছালেহ মো. শহীদুল্লাহ এবং বোর্ড সদস্য (মেম্বারশিপ অ্যাফেয়ার্স) পরিকল্পনাবিদ সাদী মো. হারুন।
মূল প্রবন্ধে বিআইপি’র সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘অপরিকল্পিত নগরায়ন, জলাধার ও গাছপালা ধ্বংস, দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং অপর্যাপ্ত পয়োঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে দেশের শহরগুলো আজ মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। ভূমি ব্যবহারের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত ও জলাশয় হারানোর ফলে জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করছে। দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে মশার নিরাপদ প্রজননক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। অপরিকল্পিত এই আত্মঘাতী প্রবণতা চলতে থাকলে আগামীতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।’
শহরে মশক নিধন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গতানুগতিক লোক দেখানো কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করে বিআইপি সভাপতি ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মুহম্মদ মোসলেহ উদ্দিন হাসান ড্রোন ম্যাপিং ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর কঠোর জোর দিয়েছেন।
ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের কর্মীরা সাধারণত রাস্তা ধরে হেঁটে হেঁটে স্প্রে করার কারণে রাস্তার পাশের নর্দমা নজরে এলেও বহুতল ভবনের ছাদের কর্নার বা পেছনের অংশে জমে থাকা মশার প্রজননস্থল সম্পূর্ণ দৃষ্টির আড়ালে থেকে যায়। জিআইএস ও ড্রোন বেইজড ম্যাপিং প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো বিল্ডিংয়ের কোন ছাদের কোন কোণায় সর্বনিম্ন তিন ইঞ্চি ময়লা বা পানি জমে আছে তা নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করে সরাসরি সেখানে ওষুধ বা কীটনাশক স্প্রে করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব।’
বিআইপির সহ-সভাপতি শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান বলেন, সারাবিশ্বে ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেও বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নের নামে প্রকৃতি ও পরিবেশকে নির্মমভাবে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিষয়ক নীতিনির্ধারকদের সতর্ক দিয়ে তিনি বলেন, ‘দুর্যোগ এলে সবাই মিলে ঝাঁপিয়ে পড়বেন আর দুর্যোগ কেটে গেলে আবার ঘুমিয়ে পড়ব, এমন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। জনস্বাস্থ্য ও পরিকল্পনাকে সারা বছরের নিয়মিত অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
E-mail:dailysamadhan24@gmail.com
© 2026 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | DailySamadhan.com