স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতের নেতৃত্বাধীন উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল জাপান সফর শেষে আজ (৪ অক্টোবর) দেশে ফিরেছে। সাত দিনব্যাপি এই সফরে দেশের স্বাস্থ্য খাতের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাাভ জাপানের স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের সাথে বৈঠক, কারিগরি আলোচনা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন।
প্রতিমন্ত্রীর সাথে সফরে ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহ ইমাম আলী রেজা; স্বাস্থ্য অধিদজফতরের (ডিজিএইচএস) মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস; জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের (এনআইসিভিডি) পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী; নরসিংদী সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন মো: বুলবুল কবীর; এবং প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব মো: সারওয়ার সালাম।
সমন্বিত অসংক্রামক রোগ বা এনসিডি প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের সম্ভাবনা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে এই সফর আয়োজন করা হয়। সেসময় জাপানের প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদের সাথে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, স্বাস্থ্য অর্থায়ন এবং চিকিৎসা-প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিনিধি দল জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। এর মূল উদ্দেশ্যে ছিল, জাপানের সফল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতকে আরো কার্যকর ও শক্তিশালী করা।
জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি’র (জাইকা) সদর দফতরে প্রতিনিধি দলকে জাপানের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান ও স্বাস্থ্য অর্থায়ন ব্যবস্থা নিয়ে একটি ব্রিফিং দেয়া হয়। তারা স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও চিকিৎসা ও প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠান টেরুমো মেডিকেল প্রানেক্স, ফুজিফিল্ম, তেইকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদ, তোকুশুকাই হাসপাতাল, রিভারফিল্ড রোবোটিক সার্জারি এবং একটি বেসরকারি ক্লিনিক ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনের পর চিকিৎসা পদ্ধতি, ক্লিনিক্যাল সেবা, চিকিৎসা শিক্ষা, রোগ নির্ণয়ের প্রযুক্তি ও উন্নত চিকিৎসা সমাধান ইত্যাদি বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।
এছাড়া, সফরকালে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে আলোচনা এবং নিপ্পন কোয়ে ও কেআরসি’র সাথেও আলোচনা করা হয়। এসময় জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো) এবং জাপানে বাংলাদেশ দূতাবাস যৌথভাবে ‘বাংলাদেশ হেলথ বিজনেস সেমিনার’ আয়োজন করে। সেখানে বাংলাদেশ ও জাপানের অংশীজনেরা স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
জাপানে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও তৃতীয় পর্যায়ের হাসপাতাল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত হাসপাতালগুলোর প্রতিটি স্তর ও এর স্পষ্ট ভূমিকা এবং রেফারেলের মাধ্যমে রোগীরা কীভাবে এক পর্যায় থেকে অন্য পর্যায়ে গিয়ে সেবা পান তা উল্লেখ করেন। জাপানের স্বাস্থ্যকর্মীদের পেশাদারি মনোভাব, শৃঙ্খলা ও সহমর্মিতার প্রশংসা করে তিনি আরো বলেন ‘তা থেকে প্রমাণ হয় যে, প্রযুক্তি কেনা যায়, কিন্তু মানসম্মত সেবার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হয়। আর এই শিক্ষাই আমরা দেশে নিয়ে এসেছি। আমাদের এই অভিজ্ঞতা আমাদের দেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের অনুপ্রাণিত করবে বলে আমার বিশ্বাস।’ ##
E-mail:dailysamadhan24@gmail.com
© 2026 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | DailySamadhan.com