রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরে ব্যবহৃত বাসের ছবি সংবলিত ফেইসবুক পোস্টে "ইস! একটা বড় সুযোগ ছিল। শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল।” মন্তব্য করা
যুবক আবু বকর সিদ্দিককে সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
সন্ত্রাস বিরোধী আইনে রাজধানীর রমনা থানায় দায়ের করা এ মামলায় আদালতে শুনানির সময় বিচারকের প্রশ্নের জবাবে মজা করে ওই কমেন্ট করেছেন বলে জানান তিনি।
শুনানির আগে তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) ইয়াছিন পাইক আসামিকে রিমান্ডে সাতদিন নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।
বিচারক তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আসামির পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'রাজনৈতিক পরিচয় পাইনি। হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তথ্য পাওয়া যাবে।'
এরপর বিচারক আবু বকর সিদ্দিক কে জানতে চাইলে কাঠগড়ায় থাকা সিদ্দিক হাত তোলেন।
তার আইনজীবী আছে কি না বিচারকের জিজ্ঞাসার জবাবে নেই বলে জানায়।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে শুনানিতে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী সফরে ছিলেন। বাসে বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী সফরকালে আসামি স্নাইপার নিয়ে একটা পোস্টে কমেন্টস করেন।”
এটাকে স্বাভাবিক পোস্ট হিসেবে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে। এর সাথে আর কারা জড়িত এবং স্নাইপারের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
এরপর বিচারক ওই মন্তব্য করার কারণ জানতে চাইলে আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “এমনিতে কমেন্ট করেছি। আমার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। মজা করে কমেন্ট করেছি।”
বিচারক বলেন, “অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কেউ এমন কমেন্ট করে?”
তখন আবু বকর বলেন, “আমার ভুল হয়ে গেছে।”
পরে তাকেয়জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক।
আবুবকর সিদ্দিক রাজশাহীর নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজে (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
গত বুধবার গভীর রাতে রাজশাহী মহানগরীর পবা থানার ঘোলহাড়িয়া দক্ষিণপাড়া, কচুয়াতৈল এলাকার বাসা থেকে তাকে আটক করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রমনা থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনসহ শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
ওইদিন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ড আবেদন শুনানির জন্য দিন ধার্য করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
রিমান্ডের আবেদনে বলা হয়, গত ২১ অক্টোবর ফেসবুকে ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামে একটি গ্রুপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী একটি বাসের তিনটি ছবি পোস্ট করা হয়। পোস্টের ক্যাপশনে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য লাল-সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসের পরিবর্তে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) বাস ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিল, শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ বলে মন্তব্য করা হয়।"
পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই আইডি ব্যবহারকারী শনাক্তপূর্বক আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাবা মো. আয়নাল হককেও আটক করা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর সিদ্দিকের ব্যবহৃত মোবাইল জব্দ করে তা পর্যালোচনায় বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে আপত্তিকর মন্তব্যের তথ্য পাওয়া গেছে।
ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, এজাহারে উল্লেখিত অজ্ঞাতনামা দুই থেকে তিনজনকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আসামিকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
আদালত সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউশন শাখার কর্মকর্তা শাহ আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সামরিক বিমানে করে গত ২০ অক্টোবর বেলা ৩টায় রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একটি বাসে করে তিনি নগরীতে প্রবেশ করেন।
এ সময় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীরা তাকে শুভেচ্ছা জানান। চলন্ত বাস থেকে হাত নেড়ে তাদের অভিবাদনের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।
পরে ওই বাসেই ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে যোগ দেন। দুর্গাপূজা উপলক্ষে একটি মন্দির পরিদর্শন শেষে আবার বিমানবন্দরে ফিরে যান।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে ব্যবহৃত ওই বাসের ছবি দিয়ে ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের ফেইসবুক পেইজে একটি পোস্ট করা হয়।
পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা হয়, “সবই বুঝলাম। রাজশাহীতে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর লাল-সবুজ বুলেটপ্রুফ বাসটা কই, রুয়েটের বাসে কেন? আপনারা কি জানেন রাজশাহীবাসী?”
ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে এমডি আবু বকর সিদ্দিক নামের অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়, “ইস! একটা বড় সুযোগ ছিল। শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল।”
মন্তব্যটি সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের উপপরিদর্শক মামলাটি দায়ের করেন (এসআই) মানিক হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
E-mail:dailysamadhan24@gmail.com
© 2026 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | DailySamadhan.com