ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার সরকারি ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন কাশবনে হাত-পা কষ্টেপে প্যাঁচানো অটোচালক আরজান মিয়া ওরফে আব্দুল্লাহ( ১৯)হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই।
গতকাল সোমবার ২ নভেম্বর মামলার প্রধান আসামি তানভীর আহমেদ তুহিন ( ৩০)কে কসবা সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া। তার বাড়ি হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায়।
আজ মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর দুপুরে আসামিকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পিবিআইয়ের একটি টিম। এ সময় কিভাবে হত্যা করা হয়েছে তার বর্ণনা দেয় আসামি তুহিন।
আসামির জবানবন্দিতে উঠে আসে, গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে অটোরিকশাসহ নিখোঁজ হন অলিউল্লাহ। পরে মরদেহ উদ্ধার হলেও তার ব্যবহৃত অটোরিকশা ও মোবাইল ফোনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মোহাম্মদ আব্দুল আবাল বাদী হয়ে নাসিরনগর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নামে মামলা করেন।
তদন্তে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে তুহিন ও তার সহযোগী রিমন সহ ৩ জন মিলে ভাড়া করার কথা বলে ড্রাইভারকে নাসিরনগরের ফান্দাউক এলাকায় নিয়ে আসে। ১০০০ টাকায় ভাড়া ঠিক করে। পরে কাশবনে নিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে ও গলা টিপে হত্যা করে।
পিবিআই কর্মকর্তা জানান, ঘটনার পরপরই আসামি তুহিন চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটির বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল এবং ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কসবা সীমান্ত থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। এ হত্যাকাণ্ডে মোট ৩ জন জড়িত ছিল। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে। এদিকে নিহতের বাবা বলেন, "আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই, আমি ফাঁসি চাই।"
উল্লেখ্য যে, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২:৩০ মিঃ ঘটিকায় স্থানীয় এক বাখরখানি ব্যবসায়ী তার গুদামে কর্মরত কারিগরদের কাজ শেষে বিদায় দেওয়ার পর প্রস্রাব করতে গেলে নাসিরনগর - মাধবপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে, স্থানীয় সরকারি ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন ঝোপঝাড়ের মুখে কসটেপ ও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাতনামা যুবকের লাশটি দেখতে পান। এরপর তিনি স্থানীয় এক বাসিন্দাকে খবর দেন এবং পরে থানায় বিষয়টি জানানো হয়।
খবর পেয়ে নাসিরনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করে। প্রাথমিক তদন্তের প্রয়োজনে অতিরিক্ত সিআইডি পুলিশকেও খবর দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা।
পুলিশ সুত্রে জানাযায়, নিহত ব্যক্তির গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার চিকনপুর গ্রামের আওয়াল মিয়ার ছেলে আরজান মিয়া (১৯) পেশায় একজন অটো ড্রাইভার।
নিহত আরজান মিয়ার ব্যবহৃত অটোরিকশা টি বুড়িশ্বর ইউনিয়নের বেনী পাড়া এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। পরিবারের দাবী অটোরিকশা ছিনতাই করার উদ্দেশ্য তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনা এলাকায় ভয় -ভীতি,আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
E-mail:dailysamadhan24@gmail.com
© 2026 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | DailySamadhan.com