
কিছু সংশোধনীসহ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অর্থবিল (Finance Bill, 2026) কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। অর্থবিল পাসের মাধ্যমে নতুন অর্থবছরের বাজেটে প্রস্তাবিত কর, শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য রাজস্বসংক্রান্ত বিধান কার্যকরের আইনি ভিত্তি তৈরি হলো। অর্থবিলে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও সদস্যদের বিভিন্ন সুপারিশ বিবেচনায় আনা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে অর্থবিল পাস হয়।অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বলেন, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য সামনে রেখেই এবারের অর্থবিল প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন অর্থবছরের রাজস্ব নীতি ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।
অর্থবিল পাস হওয়ার ফলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ঘোষিত আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), শুল্ক এবং সম্পূরক শুল্কসহ বিভিন্ন আর্থিক বিধান নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কার্যকর হবে। এর আগে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শেষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মঞ্জুরি দাবিও সংসদে অনুমোদিত হয়।
সংসদে অর্থবিল পাসের মধ্য দিয়ে নতুন অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে ৭ জুন থেকে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া এই অধিবেশনটি চলবে আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত। এবারের অধিবেশনে বাজেটের ওপর প্রায় ৪০ ঘণ্টা আলোচনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট সংসদে উপস্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বাজেট সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।
সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের কাজ নিষ্পন্নের জন্য সময় বরাদ্দ করা ও অধিবেশনের স্থায়িত্বকাল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সাধারণত বাজেট আলোচনার জন্য মোট ৪০ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করা হয়।
সংসদ সচিবালয় বলেছে, সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টায় সংসদ অধিবেশন বসবে। ৯ জুলাই দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বৈঠকে।
তবে ২৭-৩০ জুন এ চার দিন প্রতিদিন দুই বেলা বৈঠক করা যেতে পারে বলে প্রস্তাব করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘প্রয়োজনে অধিবেশনের সময় ও কার্যদিবস সম্পর্কিত যেকোনো বিষয় পরিবর্তনের ক্ষমতা স্পিকারকে দেওয়া হয়েছে।’
এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য ১৯১টি ও অন্য মন্ত্রীদের জন্য ৩০৩৭টি প্রশ্নসহ মোট ৩২২৮টি প্রশ্ন পাওয়া গেছে। বিধি-৭১ এ মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশ পাওয়া গেছে ৯৮টি এবং সিদ্ধান্ত-প্রস্তাবের (বিধি-১৩১) ২৯৩টি নোটিশ পাওয়া গেছে।

















