
পবিত্র ঈদুল আযহা-২০২৬ উদযাপন শেষে কর্মস্থলমুখী মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। মন্ত্রী ও চেয়ারম্যানের দিক নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম পরিচালনা, মোবাইল কোর্ট, ভিজিলেন্স টিম, সচেতনতামূলক ব্রিফিং ও মাইকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করছেন সংস্থাটি।
রাজধানীসহ সারা দেশে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। মন্ত্রীও চেয়ারম্যান সার্বক্ষণিক এই কার্যক্রমের খোঁজ খবর রাখেন এবং বিশেষভাবে দিকনির্দেশনা দেন। তাদের দিক নির্দেশনার মাধ্যমে বিআরটিএ’র ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক মো. শফিকুজ্জামান ভূঁইয়া ও কর্মকর্তা এবং কর্মচারী সহ ব্যাপকভাবে সতর্কমূলক প্রচারণা করে থাকেন।
উল্লেখ,৩১ মে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া চানমারি ও খানপুর এলাকায় পরিচালিত মোবাইল কোর্ট কার্যক্রমে সন্তোষজনক চিত্র পাওয়া গেছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাবাসসুম হাসান তানিশার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন বাস কাউন্টারে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট দৃশ্যমান অবস্থায় পাওয়া যায়। যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা অন্য কোনো অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। যাত্রী ও পরিবহনের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকায় যানজটও দেখা যায়নি। উল্লেখযোগ্য কোনো অনিয়ম পরিলক্ষিত না হওয়ায় কাউকে জরিমানা করা হয়নি।
ঈদ শুরু থেকে পরবর্তী সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন রুটে বাস ছাড়ার আগে ভিজিলেন্স টিমের পক্ষ থেকে চালক ও কন্ডাক্টরদের নিয়মিত ব্রিফিং দেওয়া হচ্ছে। এতে নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা, বেপরোয়া ওভারটেকিং পরিহার, ট্রাফিক আইন অনুসরণ এবং দায়িত্বশীলভাবে যানবাহন পরিচালনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।
রাজধানীর সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালেও সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়া বাসের যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে চালক, সুপারভাইজার ও হেল্পারদের জন্য বিশেষ সচেতনতামূলক ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে, যাতে যাত্রাপথে কোনো ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি না হয়।
এছাড়া বিআরটিএর বিভিন্ন সার্কেলের উদ্যোগে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে দূরপাল্লার বাসের চালক ও যাত্রীদের দায়িত্ব, নিরাপত্তা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। চালকদের সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন পরিচালনা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম গ্রহণ, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে যাত্রীদেরও নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সচেতন আচরণ ও নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।
অন্যদিকে বিআরটিএর আওতাধীন সার্কেলসমূহ জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক নির্দেশনা প্রচার করছে। এসব প্রচারণায় চালক, যাত্রী ও সাধারণ জনগণকে ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং নিরাপদ সড়ক ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, ঈদ শুরু থেকে পরবর্তী সময়ে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংস্থাটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে বিআরটিএর কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সারা দেশে ৬১টি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে।
ঢাকা মহানগরীর চারটি টার্মিনালসহ দেশের প্রতিটি জেলার টার্মিনালে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, বিআরটিএ এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের সমন্বয়ে ভিজিলেন্স টিম দায়িত্ব পালন করছে।অতিরিক্ত গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মাইকিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বাস ছাড়ার আগে চালকদের নিরাপদ যানবাহন পরিচালনা বিষয়ে সচেতনতামূলক ব্রিফিং দেওয়া হচ্ছে। এই ব্যাপারে বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে সচেতন মূলক দিকনির্দেশনা জানাইতে চাই। যাতে করে যাত্রীরা যাত্রার পথে কোন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন না হন। তারা যেন নির্বিঘ্নে যাওয়া-আসা করতে পারেন। শুধু বাস চালক হেলপার সহ যানবাহনের সাথে যারা জড়িত আছে সবাইকে সতর্কভাবে চলতে হবে। এমনকি যাত্রীদেরকেও সতর্কভাবে চলাফেরা করতে হবে। আমরা সবাইকে বলব দুর্ঘটনা থেকে এড়িয়ে চলুন এবং সতর্কভাবে চলাফেরা করুন।
মহাসড়কে মোটরসাইকেলের গতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, বিআরটিএ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগের ফলে ঈদ পরবর্তী সময়ে সড়কপথে যাত্রীদের যাত্রা আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সকল চালক ও যাত্রীর সচেতন ভূমিকার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

















