Daily Samadhan
Wednesday , 29 July 2026 | ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাঁচামরিচের ঝালে পুড়ছে ক্রেতার মুখ অতিরিক্ত দামে

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
July 29, 2026 12:24 pm

সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর ভোগ্যপণ্যের বাজারগুলোতে স্বস্তি মিলছে না ভোক্তার। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে প্রতি কেজিতে অন্তত ৪০ টাকা। তবে দামে ভয়ংকর হয়ে উঠেছে কাঁচা মরিচ। মাত্র দেড় মাস আগেও যে কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেই কাঁচামরিচ এখন প্রতি কেজি চারগুণ বেড়ে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের অতিরিক্ত দামের ঝালে এখন মুখ পুড়ছে ক্রেতাদের।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে বর্ষাকালে মাছের সরবরাহ বাড়লেও দেশি মাছসহ সব ধরনের মাছের দামও প্রতি কেজিতে ৮০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। ডিমের প্রতি হালি খুচরা পর্যায়ে অন্তত ৮ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা স্পর্শ করেছে। তবে আমদানিনির্ভর পণ্য চিনি, ভোজ্যতেল হিসেবে সয়াবিন ও ডালের সরবরাহ ঠিক থাকায় এখনো দাম বাড়েনি।

সব ধরনের পণ্যের এমন বর্ধিত দামে নির্বাক ভোক্তা। ভোগান্তি এখন ক্রেতার নিত্যদিনের সঙ্গী। এদিকে চলতি বছর বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি হতে পারে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদশে সর্বোচ্চ।

তাই মূল্যস্ফীতি বাড়লে পণ্যের দামে আরও প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েইে যাচ্ছে।

মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘চলমান বন্যায় উৎপাদন কমেছে, অন্যদিকে পণ্যের সরবরাহে চরম ঘাটতি রয়েছে। উভয় সংকটের কারণে ঢাকার পাশের বিভিন্ন জেলা থেকে সবজি এবং অন্য পণ্য কম আসছে, যার কারণে পণ্যের দাম বাড়ছে।’

শুধু কাঁচামরিচ নয়, বৃষ্টি ও বন্যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সবজির দামেও। বেশির ভাগ সবজির কেজি ৬০ থেকে ১০০ টাকা। চড়া দামের পণ্যের তালিকায় রয়েছে ফার্মের মুরগির ডিমও। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মগবাজার, শান্তিনগর ঘুরে চড়া দামে সবজি বিক্রি হতে দেখা গেছে।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী আহমদ হোসেন রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চল রংপুর, দিনাজপুর, সিরাজগঞ্জ থেকে বেশি পটোল, কাঁচা মরিচ, আলুসহ বিভিন্ন সবজি ঢাকার কারওয়ান বাজারে আসত। কৃষকের জমিতে অধিকাংশ কাঁচামরিচের গাছ মারা যাওয়াসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে, যার কারণে এখন উত্তরাঞ্চল থেকে পণ্য কম আসছে।

তবে ঢাকার পাশের জেলা মানিকগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ থেকে এখন কিছু সবজি আসছে বলে জানান মুন্সীগঞ্জ আড়তের একজন প্রতিনিধি।

কিচেন মার্কেটে ১৯৮২ সাল থেকে ব্যবসা করেন ডিম ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় কিছু পণ্যের জোগান কম রয়েছে। বন্যায় উৎপাদন ঘাটতির কথা বলে ব্যবসায়ীদের একটা শ্রেণি মুনাফা তুলছে।’

তবে তা সরকারের পক্ষ থেকে কেউ দেখছে না, যার কারণে বাজারে একপ্রকার সংকট তৈরি হয়েছে, যা ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করছে বলে জানান আরও কয়েকজন বিক্রেতা।

তাদের অভিযোগ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ অন্য ভোগ্যপণ্যের পরিদর্শন করলেও কাঁচাবাজারে প্রতি তাদের নজরদারি নেই বলে অভিযোগ করেন কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের এক ব্যবসায়ী।

সবজির মতো আলুর দামও লাগামছাড়া। আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, আলুর দাম গত বছরের এই সময়ের তুলনায় ৬৭ শতাংশ বেশি। মানভেদে এখন আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়।

এদিকে, ভোগ্যপণের উচ্চমূল্যের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশে। চলতি অর্থবছরেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি গড় মূল্যস্ফীতি থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

এডিবি বলছে, চলতি বছর বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি হতে পারে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

এডিবির এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক জুলাই সংস্করণে মূল্যস্ফীতির এই পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি। সেখানে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের জন্য ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর গড় মূল্যস্ফীতির যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তাতে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি হবে।

এডিবি বলছে, দেশে পেট্রোলিয়াম, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের প্রভাব পরিবহন, পরিষেবা ও অন্যান্য ভোক্তাপণ্যের দামে পড়তে থাকবে, যা মূল্যস্ফীতি কমার গতি ধীর করবে।

বাংলাদেশে টানা তিন মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি আছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সবশেষ হিসাবে, গত জুনে মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। গত মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পরে অর্থাৎ, আগের ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি। এমন পরিস্থিতিতে এডিবির পূর্বাভাস হলো, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৮ শতাংশ।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঝিঙে, কাঁকরোল, বেগুন, পটোল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। ২০ দিন আগে ছিল ৪০-৫০ টাকা কেজি। প্রতি কেজি করলা ও ঢ্যাঁড়শের দাম চাওয়া হচ্ছে ১০০ টাকা, দুই সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা কম দরে। চিচিঙ্গা, ধুন্দল, শসার কেজি এখন ৬০ টাকা।

মগবাজারে চারুলতা মার্কেটের কাঁচাবাজারে গতকাল সকালে কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী রূহুল আমিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, মধ্যবিত্তের আর্থিক অবস্থা অনেক খারাপ হয়েছে। বাজারে কোনো স্বস্তি পলোম না। এখন প্রতি কেজিতে ৪০ থেকে ৬০ টাকা দাম বেড়েছে।

চারুলতা মার্কেটে আয়শা খাতুন নামের এক গৃহিণী বলেন, ‘বাজারে ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। বিক্রেতা চেনাজানা হওয়ায় ১০ টাকা কম রেখেছে।’

বাজারে ইলিশের সরবরাহ ভালো, দামও তুলনামূলক কম। মৌসুমের শুরুর দিকে এক কেজির ইলিশের দাম হাজার টাকার বেশি থাকে। এখন এক কেজির ইলিশ ৯০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আর মাঝারি আকারের ৮০০ গ্রাম ওজনের একেকটি ইলিশের দাম পড়ছে ৭০০ টাকা। বিক্রেতারা বলছেন, সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে ইলিশের দাম আরও কমবে।

বাজারে আদা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২০০ টাকায়, যা কোরবানির ঈদের আগে ছিল ১৪০ টাকা। তবে চীনা আদা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৪০ টাকায়, যা ঈদের আগে ১০০ থেকে ১১০ টাকা ছিল।

আদা আমদানিকারক আবদুল মাজেদ বলেন, ‘আমদানি মূল্যসহ সব খরচ হিসাব করলে প্রতি কেজি আদা এখন যে দামে বিক্রি হচ্ছে, তাতেও লোকসান হচ্ছে।’

সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ায় বিপাকে আছেন আয় কমে যাওয়া সাধারণ মানুষ। তবে চালের দাম সম্পর্কে টিসিবি জানায়, গত বছরের এই সময়ের তুলনায় মোটা চালের দাম কেজিতে ১৮ শতাংশ বেড়েছে। ৪৫ টাকার নিচে এখন মোটা চাল পাওয়া যাচ্ছে না।

কিচেন মার্কেটের নোয়াখালী ট্রেডার্সের মালিক চাল ব্যবসায়ী বেলাল আহমেদ বলেন, তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি চিকন চালের দাম বেড়েছে। তবে চালের দাম কমাতে চাইলে অবশ্যই আমদানি অব্যাহত রাখতে হবে বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ - ব্রাহ্মণবাড়িয়া

আপনার জন্য নির্বাচিত

নাসিরনগরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ১ মহিলাসহ অর্ধশতাধিক আহত

কম্বোডিয়ার বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার হওয়া আরও ৭৮ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন

বিশ্বকাপে খেলা ফুটবলারের মরদেহ উদ্ধার

৮ বছরের শিশু প্রিতমকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন

মানুষ আমাদের ‘আফ্রিকার ব্রাজিল’ বলে ডাকে: হাকিমি

ডিমলায় স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনীর উদ্বোধন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: দুপুর ১২টায় ব্যালট নিয়ে সংসদে যাবে ইসি

সিআরএ’র নতুন সদস্যদের নিয়ে গঠনতন্ত্র পাঠদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন

জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ

প্রশাসন অনেকটা নামে মাত্র প্রশাসনে পরিণত হয়েছে: সেলিম উদ্দিন