
গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে গাজীপুরের প্রায় ২০ শতাংশ শিল্প-কারখানায় চার দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি একদিনের ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে দীর্ঘ অবকাশ পাওয়ায় হাজারো পোশাকশ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তবে যানবাহনের সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে তাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
শিল্প পুলিশ সূত্র জানায়, বন্ধ রাখা কারখানাগুলোর বেশিরভাগই তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, নিটিং, ডাইং ও ওয়াশিং শিল্পের। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অনেক কারখানা সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে নির্ধারিত সাপ্তাহিক ছুটির পাশাপাশি অতিরিক্ত ছুটি পেয়েছেন বিপুলসংখ্যক শ্রমিক।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকেই গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল থেকে শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার যাত্রা শুরু হয়। বুধবার সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দূরপাল্লার যানবাহনের অপেক্ষায় সড়কের দুই পাশে শত শত যাত্রী দাঁড়িয়ে আছেন। প্রয়োজনের তুলনায় বাসের সংখ্যা কম থাকায় অনেককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
বাড়ি ফেরা যাত্রীরা অভিযোগ করেন, পরিবহন সংকটকে পুঁজি করে অনেক বাস ও অন্যান্য যানবাহনের চালক স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দুই থেকে তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায় করছেন। উপায়ান্তর না পেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই গন্তব্যে রওনা হচ্ছেন তারা। এতে নিম্ন আয়ের শ্রমিক ও তাদের পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
এদিকে যাত্রীদের চাপ বেড়ে গেলেও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে চন্দ্রা, সফিপুরসহ আশপাশের এলাকায় যাত্রী ওঠানামার কারণে মাঝে মধ্যে ধীরগতির সৃষ্টি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা না গেলে উৎপাদন কার্যক্রম আরও ব্যাহত হতে পারে। এর প্রভাব রপ্তানিমুখী শিল্পের পাশাপাশি শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা ও উৎপাদন পরিকল্পনার ওপরও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

















