Daily Samadhan
Monday , 14 September 2026 | ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে দেখে রাখবেন’- চিরকুটে লিখে ব্যাংক কর্মকর্তার আত্মহত্যা

প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
September 14, 2026 11:09 pm

চট্টগ্রামে জনতা ব্যাংকের এক সহকারী ব্যবস্থাপকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর হালিশহর এ ব্লকের নিজ বাসা থেকে মোহাম্মদ আবুল হোসাইন (৪৬) নামে ওই ব্যাংক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মরদেহের পাশ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। এতে ব্যাংকের ঋণ বিতরণ নিয়ে চাপ, একটি মামলাকে ঘিরে দুশ্চিন্তা এবং নিজের আর্থিক সংকটের কথা উল্লেখ করেছেন আবুল হোসাইন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

চিরকুটে তিনি লিখেছেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। আমাকে সবাই ক্ষমা করে দেবেন। আমার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে আপনারা দেখে রাখবেন।’ আবুল হোসাইনের বাড়ি সন্দ্বীপ উপজেলার সারিকাইত ইউনিয়নে। তিনি জনতা ব্যাংকের মুরাদপুর শাখার ঋণ শাখার দায়িত্বে ছিলেন।

পুলিশ জানায়, অফিসের চাপ ও হতাশা থেকেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

হালিশহর থানার ওসি মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন মন্ডল বলেন, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ বাসা থেকে ব্যাংক কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। মরদেহের পাশ থেকে একটি চিঠি পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

চিঠিতে আবুল হোসাইন লিখেছেন, ‘মুরাদপুর শাখার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নানাবিধ প্রেশার, লোন দেওয়া না দেওয়া, ফাইল আরও কত কী?’

নিজের আর্থিক সংকটের কথাও চিঠিতে উল্লেখ করেন তিনি। ব্যবসার বকেয়া ও মানুষের কাছে পাওনা টাকা আদায় না হওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন বলে জানান। এর মধ্যে গত ৪ আগস্ট স্ত্রীর নামে থাকা একমাত্র ফ্ল্যাটটিও বিক্রি করতে বাধ্য হন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে ২০২১ সালে ঋণ বিতরণের একটি বিষয়ও তুলে ধরেন আবুল হোসাইন। তিনি উল্লেখ করেন, ওই ঋণ বিতরণকে কেন্দ্র করে লালদীঘি শাখার তৎকালীন ব্যবস্থাপক হিসেবে তার এবং আরও তিন সহকর্মীর বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘আমি নির্দোষ ও নিরপরাধ শতভাগ। এ চিন্তায় গত দুই সপ্তাহ যাবৎ আমি ঘুমাতে পারি নাই।’

স্ত্রীর কথা উল্লেখ করে আবুল হোসাইন লিখেছেন, ‘আমার স্ত্রীর মতো এত মমতাময়ী, দরদি স্ত্রী পাওয়া আমার সৌভাগ্য।’

তার দুই সন্তানের একজন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। অপর সন্তানও পরিবারের সঙ্গে রয়েছে।

সর্বশেষ - ব্রাহ্মণবাড়িয়া