
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অভিযান পরিচালনা করে বিস্ফোরক দ্রব্য ও ককটেল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং অসৎ উদ্দেশ্যে প্রস্তুতকৃত ৯ হাজার পিস কাগজের মুখোশ উদ্ধারসহ এক দুষ্কৃতিকারীকে গ্রেফতার করেছে শ্যামপুর মডেল থানা পুলিশ। গত ২৫ সেপ্টেম্বর শ্যাম্পুর মডেল থানার পুলিশ সন্ত্রাসী ইমনকে গ্রেফতার করেন।
গ্রেফতারকৃতের নাম- জাহিদ হাসান ইমন (৩০)।
জাহিদ হাসান ইমনের উত্থান !
,গরিব মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে জন্ম আজিমপুর রসুলবাগে জাহিদ হাসান ইমন (সুদখোর ইমন) নামে পরিচিত। বাবা- মায়ের বিচ্ছেদ হয় লোভ লালসার ও নষ্ট চরিত্রের কারনে। বিগত সরকার আমলে লালবাগ থানার আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মতিউর রহমানের পা টিপা চা বানানোর দিয়ে শুরু হয় তার জীবনের চলা আর অর্থ উপার্জন ।
সামান্য কিছুদিন যুবলীগের রাজনীতি করে মানুষ কে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে,ফর্মা গীরি করে, সুদের ব্যাবসা, ফুতপাত দখল চাঁদাবাজি ও দখলবাজী করে ২ বছরেই হয়ে যান কোটি কোটি টাকার মালিক ! ৫ই আগষ্ট আওয়ামীলীগ ফ্যাসিষ্ট সরকারের পতন হওয়ার পর পরই পালিয়ে কেরানিগঞ্জে আশ্রয় নেয় এই জাহিদ হাসান ইমন (সুদখোর ইমন)এবং পরবর্তী তে একবার গ্রেফতারও হন ড. মোহাম্মদ ইউনুস সরকারের আমলে।তিন মাস ১০দিন কারা ভোগের পর মুক্তি পান জেলখানা থেকে।আজিমপুর এলাকায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিডিআর টু নিউমার্কেট লেগুনা স্ট্যান্ডে নিয়মিত চাঁদা উঠাতেন এই জাহিদ হাসান ইমন। এবং এলাকায় সুদের ব্যাবসা চালাতেন।লাখে নিতেন ৮ থেকে ১২হাজার টাকা পর্যন্ত।
৩৬ জুলাই ছাত্রদের ওপর নির্যাতনের ছবি
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোহরাব ও সাধারণ সম্পাদক রেজার কাছে নিয়ে যান তার কিছু সহযোদ্ধারা। দু’চারটা মিছিলের বিনিময়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ জাহিদ হাসান ইমন ওরফে সুদখোরই ইমন কে বানিয়ে দেয় ২৬ নাম্বার ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। আওয়ামী যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ২৬ নং ওয়ার্ড এলাকায় যাচাই-বাছাই না করেই একজন সুদখোর ও চাঁদাবাজকে এই কঠিন সময়ে কিভাবে তাকে একটা ওয়ার্ডের দায়িত্ব দেওয়া হল এটা ভাবার বিষয়।
তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলীল , জাহিদ হাসান ইমন এর মা নাসিমা আক্তার এর জন্য সুপারিশ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজের চতুর্থ শ্রেণীর একটি কর্মের জন্য। দীর্ঘদিন জাহিদ হাসানের মা নাসিমা সেই কর্মে যোগদান করেনি বা করতে পারেনি নানা রকম আইনি জটিলতার কারণে। এরপর জাহিদ হাসানের মা চলে যান বাংলাদেশের বাহিরে চাকরির জন্য।
২০১৬/২০১৭ সালের পরে আইনি লড়াই ও আওয়ালীগের নেতাদের সুপারিশে সেই চাকরিতে যোগদান করেন এবং এখোনো নাসিমা প্রভাবের সাথে চাকুরি চালিয়ে যাচ্ছেন ঢাকা মেডিকেল । সেই নাসিমা চাকরি পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেতাদের ধরে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি ও অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
গত সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী , এমপি ও নেতাকর্মীদের নাম ভাঙ্গিয়ে মা ও ছেলে মিলে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে অঢেল সম্পদ গড়েছেন বলে একাধিক অভিযোগে জানা গেছে। গ্রেফতারকৃত ইমন গত ১৫ বছর যাবত আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত হয়ে লালবাগ থানাধীন আজিমপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি দখল বাজি সহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছে গ্রেফতারকৃত ইমন । অল্প দিনে আঙ্গুল ফোলে কলা গাছ মতন সন্ত্রাসী ইমনের উত্থানটা হয় ।
লালবাগ ও আজিমপুর এলাকার বসবাসকারী মানুষরা তার অতিষ্ট হয়ে অনেকেই এলাকা ছাড়িয়ে চলে যান। ব্যবসায়ীরা ঠিকমতো ব্যবসা করতে পারতেন না তার চাঁদাবাজি কারণে। সেই গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে এলাকার মানুষ কিছুটা স্বস্তিতে ফিরেছেন । এলাকার একাধিক মানুষের অভিযোগ, সন্ত্রাসী ইমনের বাহিনীর অত্যাচারে পুরো এলাকার লোকজন ঠিকমত চলাফেরা করতে পারতেন না ও ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বাড়িঘর তৈরি করতে পারতেন না। তাই সন্ত্রাসী ইমনের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি মূলক ব্যবস্থা করা হোক ।


















