Daily Samadhan
Thursday , 2 July 2026 | ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫৪ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার ঐকমত্যে সরকার-বিরোধী দল: চিফ হুইপ

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
July 2, 2026 5:17 pm

বাংলাদেশের ৫৪ বছরের সংসদীয় ইতিহাসে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে তারেক রহমানের এই বাজেট উল্লেখ করে সরকারি দলের চিফ হুইফ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, “স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনও বাজেটে বিরোধী দল আগাগোড়া অংশগ্রহণ করেছে এবং সরকার ও বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। তাই প্রধানমন্ত্রী এই বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা জনগণের কল্যাণ ও উন্নয়নের এক নতুন রূপরেখা।”

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জাতীয় সংসদের এলডি হলে অনুষ্ঠিত বাজেট পরবর্তী সংসদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন চিফ হুইপ।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

চিফ হুইপ বলেন, “বাজেট নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে অনেক বিশ্লেষণ ও আলোচনা হয়েছে। কেউ বলেছেন এটি খুব ভালো বাজেট, আবার কেউ বলেছেন বাজেট ভালো হয়নি। সেসব বিতর্ক আপনারা জানেন। আমি শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরতে চাই। এটি তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রণীত প্রথম বাজেট। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনও বাজেটে বিরোধী দল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বিরোধী দলের জন্য ২৬ শতাংশ সময় বরাদ্দ থাকলেও আমরা তাদের অতিরিক্ত সময় দিয়েছি। ফলে তারা প্রায় ৩১ শতাংশ সময় বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়েছেন। বিরোধী দলের নেতারা ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট পর্যন্ত বক্তব্য দিয়েছেন এবং বিরোধীদলীয় নেতার জন্য কোনও সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়নি। তারা যেভাবে কথা বলতে চেয়েছেন, সেভাবেই তাদের বক্তব্য শোনা হয়েছে।”

চিফ হুইপ বলেন, “সাধারণত বাজেট আলোচনার নির্দিষ্ট সময় শেষে সরকার গিলোটিন প্রস্তাব আনেন। কিন্তু বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এই প্রথম বিরোধীদলীয় নেতা নিজেই স্পিকারের কাছে গিলোটিন প্রস্তাব দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। বিরোধ দল ছাঁটাই প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নিয়েছে। অর্থাৎ তারা মনে করেছেন বাজেট নিয়ে প্রয়োজনীয় আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।”

সাইকেল পার্টসের ওপর কর ছাড়ের দাবি ছাড়া বিরোধী দলের অন্য কোনও দাবি ছিল না। তারা দাবি জানালে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সেটি বিবেচনার নির্দেশ দেন। এসব ঘটনা একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়— সরকার ও বিরোধী দল উভয়েই দেশ গঠনে একসঙ্গে কাজ করতে চায়। তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখা এবং গণতন্ত্রকে সুসংহত করার বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ। অতীতে বাজেটকে কেন্দ্র করে মিছিল-মিটিং, বর্জন বা ব্যাপক বিরোধিতার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এবার তেমন কোনও পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। একই সঙ্গে বাজেট ঘোষণার আগে কিংবা বাজেট পাস হওয়ার পরও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটেনি।

জীবনবান্ধব বাজেট ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা

চিফ হুইপ বলেন, “সরকার চায়— যেসব ক্ষেত্রে কর কমানো হয়েছে, সেসব পণ্যের দামও কমুক। এই বিষয়ে সরকার আন্তরিক। ৬৩টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কোনও কর বাড়ানো হয়নি; বরং যেখানে ৫ শতাংশ কর ছিল, সেখানে তা কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম কমা উচিত।”

তিনি বলেন, “এই বাজেট মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় সব খাতকেই স্পর্শ করেছে। সে কারণেই প্রধানমন্ত্রী এটিকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ বাজেট হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট একটি বাস্তব অর্থেই জীবনবান্ধব বাজেট।”

পাচার বন্ধ হলেই সেই অর্থ দিয়েই বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব

চিফ হুইপ বলেন, “অনেকে প্রশ্ন করেন, এত কর ছাড় দিয়ে সরকার চলবে কীভাবে? এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, প্রতিবছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে পাচার হয়েছে। এই অর্থপাচার বন্ধ করা এবং দুর্নীতি কমানো গেলেই রাষ্ট্রের অর্থসংকট অনেকটাই দূর হবে। বাজেট বাস্তবায়নে কোনও সমস্যা থাকবে না।”

নূরুল ইসলাম মনি বলেন, “আমরা একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি উত্তরাধিকারসূত্রে। একদিনে ডলারের দাম ৭ টাকা বেড়েছে, কয়েকটি ব্যাংক মারাত্মক সংকটে পড়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে হাজার হাজার কোটি টাকা সহায়তা দিতে হয়েছে। অতীতের অনিয়ম, আর্থিক বিশৃঙ্খলা ও মেগা প্রকল্পের নামে দুর্নীতির প্রভাব এখনো অর্থনীতিতে রয়ে গেছে। একারণেই সরকার কেবল অবকাঠামো নির্মাণ নয়, দীর্ঘমেয়াদি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে গুরুত্ব দিচ্ছে। পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের লক্ষ্য শুষ্ক মৌসুমে কৃষিতে পানির নিশ্চয়তা এবং দেশের পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন। এগুলো শুধু প্রদর্শনমূলক প্রকল্প নয়, মানুষের প্রয়োজন পূরণের প্রকল্প।”

এছাড়া ২৫ কোটি গাছ রোপণ, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন, কৃষক কার্ড, পরিবার কার্ড, নারীদের জন্য বিশেষ কার্ড, প্রবাসীসেবা এবং স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো— কোনও মানুষ যেন না খেয়ে না থাকে, মানুষের জীবনমান উন্নত হয় এবং তারা স্বাবলম্বী হতে পারে।

সংবাদ সমম্মেলনে হুইপ অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ - ব্রাহ্মণবাড়িয়া

আপনার জন্য নির্বাচিত

নকআউটে উঠল কারা, শেষ ৩২-এ কার প্রতিপক্ষ কে, ম্যাচ কবে

ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট প্রক্রিয়ায় নতুন নির্দেশনা

প্রতিবন্ধীদের জনসম্পদে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য- সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন

নাসিরনগরে লোডশেডিংয়ে জনজীবনে অস্বস্তি ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা, বিল নিয়ে ও কারসাজি

ফের ভূমিকম্পে কাঁপল চীন, নেপালে উচ্চ সতর্কতা জারি

দক্ষিণ রাউজানে মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক ধর্মীয় নাটক “কৃষ্ণ হারা বৃন্দাবন”

বিএনপি সরকারের হাত ধরে নতুন অর্থনীতির অভিযাত্রা

বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে কাতারের আমিরকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি

এমপিরা ঋণখেলাপি নন ঋণগ্রস্ত’, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনায় রুমিন ফারহানা

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন