
রাজধানীর একটি মার্কেটে কর্মরত সিকিউরিটি গার্ড মোঃ আমির হোসেনের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, তিনি ইলেকট্রিক মিস্ত্রি না হওয়া সত্ত্বেও তাকে জোরপূর্বক বৈদ্যুতিক কাজ করানো হয়, যার পরিণতিতে তার মৃত্যু হয়েছে। তারা ঘটনাটিকে স্বাভাবিক দুর্ঘটনা নয় বলে দাবি করে সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিহতের ভায়রা ভাই মোঃ আব্দুর রাজ্জাক জানান, গত ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখ দুপুর প্রায় ৩টার দিকে একটি মোবাইল নম্বর থেকে আমির হোসেনের বাসায় ফোন করে জানানো হয়, তিনি ডিউটিতে আসেননি। পরে একই নম্বর থেকে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ফোন করে বলা হয়, আমির হোসেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন।
খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, পুরো মার্কেট বন্ধ রয়েছে। প্রধান ফটকে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীরা ঘটনার বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন তারা। পরে মার্কেটের পেছনের রাস্তা দিয়ে বেজমেন্টে প্রবেশ করে তারা আমির হোসেনসহ দুই ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন বলে দাবি করেন।
স্বজনদের অভিযোগ, আমির হোসেনের মূল দায়িত্ব ছিল সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ করা। তিনি কোনো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইলেকট্রিশিয়ান ছিলেন না। এরপরও তাকে বৈদ্যুতিক কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে, যা চরম অবহেলা এবং মৃত্যুর জন্য দায়ী হতে পারে বলে তাদের দাবি।
মোঃ আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, “আমি একজন টেকনিক্যাল পারসন হিসেবে মনে করি, ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত এবং মরদেহের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরিবর্তে কেন দীর্ঘ সময় বেজমেন্টে ফেলে রাখা হয়েছিল, সেটিও তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর মার্কেট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাননি। এ ঘটনায় মার্কেট মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা তদন্তের আওতায় এনে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান তিনি।
নিহতের পরিবার ও স্বজনরা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মার্কেট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে সংযুক্ত করা হবে।


















