
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগ এনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘মঞ্চ ২৪’ আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এ দাবি জানান।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুর এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, “আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চাই না। ওনাকে রিজাইন দিতে হবে। কারণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে উনি ফেইল করেছেন।”
তিনি বলেন, “২৪-এর অভ্যুত্থানের পরে আমি মনে করেছিলাম যে ভঙ্গুর রাষ্ট্রকে বিনির্মাণ করার দায়িত্ব ছিল আপনাদের। কিন্তু আপনারা তা করেননি। কারণ আপনারা জুলাই গণভোটকে অস্বীকার করেছেন, এটাই জনগণের সঙ্গে আপনাদের প্রথম প্রতারণা।”
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মুক্তাদিরের স্টুডিও ভেঙে দিল। মুক্তাদির যখন চাঁদাবাজির কথা বলল, তখন তাকে জমি নিয়ে গণ্ডগোলের চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে। জমি নিয়ে গণ্ডগোল থাকলে তো কোর্ট-কাচারি আছে। আপনি কে এসে ভেঙে দিলেন? আর আপনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) তার সঙ্গে একটা তর্কযুদ্ধে নেমে গেলেন!”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “আপনি যেদিন থেকে ক্ষমতায় এসেছেন, সেদিন থেকেই আপনি সংবিধান বিশেষজ্ঞ। আপনি এমন একটা সংবিধান করতে চাচ্ছেন, যেটা জুলাইয়ের স্বপ্ন নয়। আপনার কাজ তো সংবিধান ঠিক করা না, আপনার কাজ দেশের আইনশৃঙ্খলা ঠিক করা। আপনি কাজ করতে পারছেন না, আপনি চলে যান, রিজাইন করেন।”
মানববন্ধনে মঞ্চ ২৪-এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী বলেন, “এই সরকারের কাছে ৭০ শতাংশ জনগণের রায়ের কোনো মূল্য নেই।”
তিনি বলেন, তেল-গ্যাস সংকট যেভাবে জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে, সেটিকে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে “জনবিস্ফোরণের প্রথম লক্ষণ” হিসেবে দেখছেন।
ফাহিম ফারুকী আরও বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সরকার গঠন ছাড়া কোনো বিকল্প থাকবে না।
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যখনই কোনো জাতীয় সমস্যা এসেছে, তখন আমাদের বলা হয়েছিল—নির্বাচনটা দেন, সব ঠিক হয়ে যাবে। নদী-খাল শুকিয়ে যাওয়া, ট্রাফিক জ্যাম, জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি থেকে শুরু করে সীমান্তে হত্যা—সবকিছুর সমাধান হিসেবে বলা হয়েছিল নির্বাচিত সরকার এলে ঠিক হবে। কিন্তু আমরা দেখছি, আগের মতোই সবকিছু আছে।”
মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজায় যেভাবে হাসপাতাল গুঁড়িয়ে দেয়, ভারতের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি যেভাবে মসজিদ-মন্দির গুঁড়িয়ে দেয়, ঠিক একইভাবে রাতের আঁধারে ২০০-২৫০ সন্ত্রাসী মিলে ৫০ বছরের পুরোনো একটা হাসপাতালকে বুলডোজ করে দিয়েছে। এটি ৫৬ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার ঘটেছে। এটাই নির্বাচিত সরকারের সুজলা-সুফলা বাংলার চিত্র!”
তিনি অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটিয়ে জনমনে শান্তি ও নিরাপত্তাবোধ ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।
মঞ্চ ২৪-এর উপদেষ্টা ড. ফয়জুল হক বলেন, “সরকার ক্ষমতায় এসেছে মাত্র ছয়-সাত মাস। এর মধ্যেই তারা জননিরাপত্তা এবং জনগণের স্বাস্থ্যসেবার জায়গাটা নিরাপদ রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।”
তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে এক রাতের ভেতরে কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিক গুম করে ফেলার কথা আমি শুনিনি। ফ্যাসিস্টদের সময় শুনেছি মানুষদের গুম করে আয়নাঘরের ভেতরে নিয়ে যেত। আর বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন সাহেবের সময়ে শুনতে হচ্ছে ২০০-২৫০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে রাতের অন্ধকারে মানুষের সেবাপ্রতিষ্ঠান চিরতরে গুম করে দেওয়া হয়েছে।”
ড. ফয়জুল হক আরও বলেন, “যাদেরকে আপনারা তাড়িয়েছেন, তারা ওত পেতে বসে আছে। যেকোনো মুহূর্তে আপনাদের এই স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ করার জন্য তারা চক্রান্ত করবে, যেটা আমরা হতে দিতে চাই না।”
তিনি বলেন, “বিএনপি বা এই সরকার আমাদের শত্রু নয়। আমরা এই সরকারকে বলতে চাই, ২৪-এর রক্তের ওপর ভর করে যেহেতু ক্ষমতায় এসে পড়েছেন, অন্তত পাঁচটা বছর ভালোভাবে দেশ চালান। আর যদি না পারেন, ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে আরেকটা সুন্দর নির্বাচনের ব্যবস্থা করেন।”
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর, মঞ্চ ২৪-এর অন্যান্য উপদেষ্টা, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও সংগঠনের কর্মীরা।


















