
ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম।
শুক্রবার দিনের শুরুতে লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৯ সেন্ট বেড়ে ১০২ দশমিক ৬০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২৭ সেন্ট বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৩ দশমিক ১৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে উল্লেখযোগ্য উত্থান ঘটে। ইরানে সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরি এবং আরও ১০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে—এমন খবর প্রকাশের পর সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। এ ছাড়া নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, এ বিষয়ে তাঁকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানকে ‘খুবই ন্যায্য’ একটি চুক্তিতে সম্মত হতে হবে, অন্যথায় দেশটির অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে।
এদিকে, অক্টোবর মাসে অধিকাংশ জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ রাখার চীনা সিদ্ধান্ত বাজারে সরবরাহসংক্রান্ত উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। তবে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি পুনরুদ্ধারের লক্ষণ এবং ইউরোপের দেশগুলোকে জরুরি ডিজেলের মজুত বাজারে ছাড়তে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ পরিস্থিতির ওপর কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বিশ্লেষকদের নজরে এখন মূলত তিনটি বিষয়—ইরানকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহের অবস্থা এবং বিভিন্ন দেশের জ্বালানি মজুত। এসব বিষয়ের পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের পরবর্তী গতিপথ।
সূত্র: আল জাজিরা

















