
রাজধানীর মেট্রো –৪ সার্কেলের পূর্বাঞ্চল বিআরটিএ উচ্চবিলাসী একজন উচ্চমান সহকারী। তার নাম মো. হারুন ইসলাম ওরফে হারুনুর রশিদ। তার হাসির আড়ালে রয়েছে রহস্যময় জাদু।দুর্নীতি, অনিয়ম ও বিভিন্ন অপকর্মের হোতা হারুন ইসলাম । বিআরটিএতে ওইসব অপকর্ম ও ঘুষ বাণিজ্য তার নিত্যদিনের কাজ। সেনপাড়া পর্বতা এলাকায় আলিশান দুইটি ফ্ল্যাটে মালিক তিনি।চাকুরি শুরু থেকে দুর্নীতি অনিয়ম বিভিন্ন অপকর্মের মাধ্যমে তিনি এখন কয়েক কোটি টাকার মালিক। গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগের সরকারের আমলা ডিবি হারুনের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে মানুষকে ভয় ভীতি দেখিয়ে অবৈধভাবে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিতেন ।
আওয়ামী লীগের দোসর হারুন ইসলাম এখনো বহাল তরীয়তে পূর্বাঞ্চল মেট্রো -৪ বিআরটিএতে রয়েছেন । সেখানকার কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে দিনের পর দিন মাসের পর মাস বছরে পর বছর হারুন ইসলাম বিভিন্ন অপকর্মের মাধ্যমেই অবৈধভাবে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন গ্রাহকদের কাছ থেকে। এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে, ওই অফিসের উপ -পরিচালক মাহাবুবুর রহমান মাহাবুব, সহকারী পরিচালক মো. এমরান খান শেখ, মোটরযান পরিদর্শক মো. আলমগীর শেখ , মোটরযান পরিদর্শ অসীম পাল ও সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা মো. এরশাদ মিয়াসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করছেন হারুন ইসলাম।
এই সব কর্মকর্তাদেরকে ম্যানেজ করে একাধিক দালালের মাধ্যমে যানবাহনের সকল কাজ অর্থের বিনিময়ে করে দিচ্ছেন হারুন ইসলাম। ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা গেছে, প্রতিনিয়তে গ্রাহকরা কাজ নিয়ে আসলে অফিসের কর্মকর্তাদের নানা ধরনের তাল বাহানা শুরু করে। গ্রাহকদের ছয় নয় করে বুঝায় কাগজের এই সমস্যা ওই সমস্যা রয়েছে ঠিক করে নিয়ে আসেন । কিন্তু আবার তাদের নিয়োজিত দালালদের কাছে গেলে আর কোন সমস্যা হয় না অর্থের বিনিময়ে তাৎক্ষণিক কাজ হয়ে যায়। এভাবেই চলছে পূর্বাচল বিআরটিএর দুর্নীতি -অনিয়ম ও অপকর্মের কর্মকাণ্ড । উচ্চমান সহকারী হারুন ইসলাম ওরফে হারুনুর রশিদ তিনি চাকুরির সুবাদে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে সেনপাড়া পর্বতা এলাকায় ৪২৯/এ, নাম্বার ভবনে দুই হাজার বর্গফুটের দুইটি ফ্ল্যাট কয় করে বসবাস করছেন বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও নিজ এলাকায় নামে বেনামে অঢেল সম্পদ গড়েছেন ।
বিভিন্ন ব্যাংকের নিজের নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামও অর্থ জমা রেখেছেন ।এর আগে হারুন ইসলাম মিরপুর ১৩ নাম্বার বিআরটিএ’র ১১৬ নাম্বার কক্ষে দায়িত্ব থাকাকালীন অবস্থায়, গ্রাহকের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময় ফাইল সম্পন্ন করে দিতেন। ওই সময় তিনি দালাল নিয়ন্ত্রণ করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন । কথিত তার কিছু দালাল চক্র রয়েছে, তাদের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করত, তারা হলো , জীকু, জাহাঙ্গীর, মোহাম্মদ হারুন, মনির, শাহাদাত, সুলতান সহ আরো অনেকে রয়েছে। এরা সবাই গ্রাহকদের কাছে গেটিস হিসেবে পরিচিত।
দালালদের মাধ্যমে জানা যায়, হারুন ইসলাম নিজেকে ডিবি আলোচিত অফিসার হারুনের নিকট আত্মীয় বলে নিজেকে জাহির করত। তার পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন লোককে ভয়-ভীতি দেখে অবৈধভাবে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিতেন হারুন ইসলাম। তার জন্মস্থান কিশোরগঞ্জের জেলার বাসিন্দা। এই হারুন ইসলাম নিজেকে আলিশান ভাবে চলাফেরা করতে পছন্দ করতেন। তার এলাকায় সে নিজেকে বিআরটিএর একজন বড় কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিত। মিরপুর ১৩ নম্বর বিআরটিএতে থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনিয়মের অনেক সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে । সংবাদ প্রচার হওয়ার পরে তাকে সিলেট মেট্রো সার্কেলে বদলি করা হয়েছিল।
কিছুদিন সিলেট মেট্রোতে থাকা অবস্থায় মোটা অংকের টাকার বিনিময় পুনরায় ঢাকা মেট্রো -৪ সার্কেলে বদলি হয়ে আসেন। বর্তমানে সেখানে কর্মরত আছেন। বর্তমান কর্মস্থলেও তার পুরোনো নিশানা বহাল রেখেই কর্মকর্তাদেরকে ম্যানেজ করে উচ্চমান সহকারী হারুন ইসলাম একের পর এক দুর্নীতি ও অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এসব ব্যাপারে উচ্চমান সহকারী হারুন ইসলামের কাছে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে তা জানতে হলে অফিসে এসে যোগাযোগ করেন । এই বলে ফোনের লাইনটা কেটে দেন। সেই জন্য তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তথ্যগুলো ব্যাপারে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযুগে আরও জানা যায়, বিগত সরকারের আমলে ভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন ধরনের লোকজনদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। মিরপুর বিআরটিএ’র কয়েকজন কর্মকর্তার মাধ্যমে জানা গেছে, সেই একজন উচ্চমান সহকারী হিসেবে চাকুরি করে কি ভাবে এত অর্থ সম্পদের মালিক হয়ে গেছে।
এত টাকার উৎস কোথা থেকে এসেছে, কিভাবে এসেছে, তার বিরুদ্ধে বিআরটিএর চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তদন্ত করলে সবকিছু বেরিয়ে আসবে। এই ব্যাপারে বিআরটিএ’র ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ শফিকুজ্জামান ভূঁইয়া সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হারুন ইসলাম মিরপুর বিআরটিএতে বিভিন্ন ধরনের অপকর্মের কারণে তাকে বদলি করা হয়েছিল ।
বর্তমানে পূর্বাঞ্চল মেট্রো -৪ সার্কেলে বিআরটিএতে কর্মরত রয়েছে । আমরা বিভিন্ন ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পেয়েছি। কিন্তু কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি । তারপরও আমরা মনিটরিং করছি । সে যদি অপরাধী হয় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


















