Daily Samadhan
Monday , 6 July 2026 | ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহে ফরেস্টার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

প্রতিবেদক
মোঃ হামিদুজ্জামান জলিল
July 6, 2026 7:36 pm

ঝিনাইদহ বন বিভাগে ট্রান্সপোর্ট পারমিশন (টিপি) এবং বনজ দ্রব্য হস্তান্তর পাসের নামে লাখ লাখ টাকার বখরা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এই পাস সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়ার কথা থাকলেও ভুক্তভোগী সেবাগ্রহীতাদের গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগের এক শ্রেণির দায়িত্বশীল কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ যোগসাজশে গড়ে উঠেছে এই শক্তিশালী দুর্নীতির সিন্ডিকেট।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলায় এই পুরো অবৈধ প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করছেন ঝিনাইদহ বন বিভাগের ফরেস্টার জাকির হোসেন এবং ফরেস্ট গার্ড দিপু বিশ্বাস। সরাসরি মাঠপর্যায়ে তারাই এই অর্থ আদায়ের মূল হোতা হিসেবে কাজ করছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। বনজ দ্রব্য পরিবহনের জন্য পাস দেওয়ার নামে প্রতিটি গাড়ি থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে এক থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্র ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, ঝিনাইদহ জেলা থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০টি বনজ দ্রব্যবাহী গাড়ি বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল করে। প্রতিটি গাড়ি থেকে এভাবে টাকা আদায় করায় মাস শেষে অবৈধ আয়ের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকায়।

তথ্য নিয়ে জানা গেছে, বিভাগীয় বন কর্মকর্তার পক্ষে ঝিনাইদহ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার জাকির হোসেন ট্রান্সপোর্ট পারমিশনের স্লিপে স্বাক্ষর করে থাকেন। অভিযোগ রয়েছে, তার কার্যালয়ের একাধিক মুড়ি বইতে (কাউন্টারফয়েল) নাম ও তারিখের জায়গা ফাঁকা রেখেই অগ্রিম স্বাক্ষর করে রাখা হয়েছে, যা নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমতো ব্যবহার করা হচ্ছে।
শহিদুল ইসলাম নামে এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) অমিতা মণ্ডলের ছত্রছায়ায় এবং বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ফরেষ্টার জাকির এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি বাগিয়ে নিয়েছেন। ফলে পুরো জেলায় বন বিভাগের কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে এবং দুর্নীতির ডালপালা বিস্তার লাভ করেছে।

শুধুমাত্র টিপি বা ট্রানজিট পাস বাণিজ্যই নয়, জেলাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা লাইসেন্সবিহীন অবৈধ করাত কল (স মিল) পরিচালনা এবং শত কিলোমিটার সরকারি বনায়ন কর্মসূচীতেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। কাগজে-কলমে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক দেখানো হলেও বাস্তবে স্বল্প শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়ে বনায়ন প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ। এছাড়া ভাউচার বিহীন গাছের চারা বিক্রি, নিয়মিত অফিস না করা একাধিক অভিযোগ রয়েছে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে কাঠ ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ জানান, বন বিভাগের এমন স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রকাশ্য হয়রানির কারণে তারা চরম কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।

দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে ঝিনাইদহ জেলা বন বিভাগের অভিযুক্ত ফরেস্টার জাকির হোসেন বলেন, “এসব নিয়ে লেখালেখির কি দরকার? আমি আপনি সকলের বাড়ি ঝিনাইদহে। খরচ-খরচা লাগলে বলেন।” সবাইকে নিয়ে চলতে হয়।

ঝিনাইদহের সহকারী বন সংরক্ষক মোছাঃ জুমুয়া জামান বলেন, “আমি এই অফিসে নতুন যোগদান করেছি। অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারবো।”

যোগাযোগ করা হলে যশোর অঞ্চলের বন সংরক্ষক হারুন অর-রশিদ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” তবে এই সিন্ডিকেটের আশ্রয়দাতা হিসেবে কথিত বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) অমিতা মণ্ডল এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সর্বশেষ - ব্রাহ্মণবাড়িয়া

আপনার জন্য নির্বাচিত

তাজিয়া মিছিলে তরবারি-লাঠি ও আতশবাজি নিষিদ্ধ: ডিএমপি

জর্ডানের অবৈধ বাংলাদেশিরা জরিমানা ছাড়াই দেশে ফিরতে পারবেন

নাসিরনগরে স্পিডবোট বাল্কহেডের  মুখোমুখি  সংঘর্ষে নিহত ২ আহত ১

গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি, স্বৈরাচারকে আর কখনো ফিরতে দেওয়া যাবে না : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

কুমিল্লায় র‌্যাবের পৃথক অভিযানে ১২ কেজি গাঁজা, ৭০ বোতল বিদেশী মদ ও ৯০ বোতল বিয়ার’সহ আটক-১

২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লায় প্রথমবার ১১ জেলার অংশগ্রহণে কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি প্রতিযোগিতা

কুমিল্লায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ধরে নিয়ে যাওয়া দুই পুলিশ সদস্যকে ফেরত দিয়েছে বিএসএফ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করলেন জামায়াতের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী

ঢামেকের ৮০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, তুললেন সেলফি