
রাজধানীর শাহবাগে সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন ধারা বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানাসহ গ্রেপ্তার ছয়জনকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (৫ আগষ্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো অন্যরা হলেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. নুরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনিরুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব মণ্ডল ও হরি সরকার।
আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার কোন আবেদন না থাকায় তাদের আদালতের হাজতখানা থেকে এজলাসে উঠানো হয়নি।
তবে তাদের পক্ষে করা পৃথক আবেদন শুনানি শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রাষ্ট্র পক্ষের প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন
আদালতসূত্রে জানা গেছে, শান্তা ফারজানা ও মোমেন মেহেদীর পক্ষে একাধিক আইনজীবী থাকায় আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) সিদ্ধান্তের পর জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
অপর চারজনের পক্ষে করা জামিন আবেদন শুনানি শেষে তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নথিসূত্রে জানা গেছে, শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর একাধিক ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৭, ৫০৬, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে আনা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মনিরুল ইসলাম এক প্রতিবেদনে দাখিল করে আসামিদের আপাততঃ কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। পরবর্তীতে তাদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।
বলা হয়েছে, থানা হাজতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনার বিষয়ে কিছু তথ্য দিলেও সহযোগী অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করেননি। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, অন্যান্য জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতার এবং আসামিদের পরিচয় যাচাইয়ের স্বার্থে তাদের জেলহাজতে রাখা প্রয়োজন। তদন্তের স্বার্থে পরবর্তীতে তাদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৭টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আসামিরা রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিয়ে একটি মিছিল বের করেন। এ সময় উপস্থিত জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য এবং এসডিএএফের সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াসসহ অন্যরা মিছিলের প্রতিবাদ জানালে আসামিরা দেশি ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোঁটা, এসএস পাইপ ও চেয়ার নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। ১ নম্বর আসামি শান্তা ফারজানা হত্যার উদ্দেশ্যে এসএস পাইপ দিয়ে আঘাত করে আল নূর মোহাম্মদ আয়াসের মাথা, মুখমণ্ডল ও দুই হাত রক্তাক্ত জখম করেন। হামলায় জুলাইযোদ্ধা মহসিন, আশরাফুল, তাওহীদ এবং মামলার বাদী বাবুল সরদার নিজেও আহত হন। পরে স্থানীয়রা আয়াসকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আসামি শান্তা ফারজানা ও মোমেন মেহেদী ইতিপূর্বে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে শেখ হাসিনাকে বৈধ এবং তারেক রহমানকে অবৈধ আখ্যা দেন। পাশাপাশি তারা জুলাই আন্দোলনকে ‘জঙ্গি আন্দোলন’ এবং আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেন। এ ছাড়া তারা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে সরকারবিরোধী অপপ্রচার চালিয়ে আসছিলেন।
রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে বাবুল সরদার বাদী হয়ে রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় গ্রেপ্তার ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অর্ধশতাধিক এর বেশী অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
এর আগে, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কয়েক ঘণ্টার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির পর অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে শান্তা ফারজানাসহ ছয়জনকে হাসপাতাল থেকে হেফাজতে নিয়ে শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়।


















