
কুলাউড়া জংশন এলাকার বাসিন্দা এবং রেলের আট দফা দাবি আদায়ের আন্দোলনের নেতা আব্দুল আজিজ ও আতিকুর রহমান বলেন, সিলেট বিভাগের মানুষের যাতায়াতে রেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা বন্ধ স্টেশনগুলো চালু, আখাউড়া-সিলেট রেলপথ দ্রুত সংস্কার ও ডুয়েল গেজে রূপান্তর, ঢাকা-সিলেট এবং সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে নতুন দুটি ট্রেন চালু এবং বন্ধ থাকা সুরমা মেইল, জালালাবাদ মেইল, কুশিয়ারা মেইল ও ডেমু ট্রেন পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন।
তারা জানান, এসব দাবিতে কুলাউড়া, সিলেট, শ্রীমঙ্গল, টিলাগাঁও ও ভাটেরা স্টেশনে ইতোমধ্যে আন্দোলন হয়েছে। একই সঙ্গে বেহাত হয়ে যাওয়া রেলওয়ের কোটি কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধারেরও দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
লংলা স্টেশন এলাকার বাসিন্দা মিসবাহ খান মদরিছ ও সাইফুল জানান, স্টেশন ও লোকাল ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। আগের তুলনায় তাদের যাতায়াত ও পরিবহন ব্যয় কয়েকগুণ বেড়েছে।
তাদের ভাষ্য, আগে কম খরচে ট্রেনে সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করা যেত। এখন সড়কপথে যেতে বেশি অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত সময়ও লাগছে। স্টেশন এলাকার ব্যবসায়ী রুবেল আহমেদ ও মাসুক আহমদসহ অনেকে জানান, একসময় স্টেশনের পাশে চা ও পানের দোকান করে তারা সংসার চালাতেন। স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের আয়-রোজগারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও বলছেন, বর্তমানে যাতায়াতে অনেক বেশি অর্থ খরচ করতে হয়। অনেক সময় পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় তারা কলেজে যেতেও পারেন না।
স্থানীয়রা জানান, একসময় লংলা, টিলাগাঁওসহ অন্যান্য স্টেশন দিয়ে খাসিয়া পান ও চা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহন করা হতো। এতে সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পেত। বর্তমানে রেলপথে এসব পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় সরকার ওই রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি কম খরচে পণ্য পরিবহনের সুযোগ না থাকায় সড়কপথে বেশি অর্থ দিয়ে মালামাল পরিবহন করতে হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে বাজারদরেও।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত বন্ধ স্টেশন ও ট্রেন চালু না করা হলে রেলওয়ের অবশিষ্ট শত শত কোটি টাকার সম্পদও দখল হয়ে যেতে পারে। তাদের মতে, স্টেশন ও লোকাল ট্রেনগুলো পুনরায় চালু করা হলে একদিকে রেলওয়ের রাজস্ব বাড়বে, অন্যদিকে বেহাত হয়ে যাওয়া সম্পদ উদ্ধারের পথও সহজ হবে।
কুলাউড়া জংশন স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. রুমান আহমদ বলেন, লোকবল ও ইঞ্জিন সংকটের কারণেই স্টেশন ও ট্রেন বন্ধ রাখতে হয়েছে।


















