
রাজধানীর মিরপুর-২ এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি ভয়ংকর ‘হানি ট্র্যাপ’ বা প্রেমের ফাঁদ পেতে ব্ল্যাকমেইল করা চক্র। নারী ও পুরুষদের সমন্বয়ে গঠিত এই চক্রটি সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে। সম্প্রতি এই চক্রের শিকার হয়ে সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। বৃহত্তরমিরপুর এলাকায় ওই চক্রের সদস্যরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। ওই চক্রের সদস্যদেরকে পল্লবী থানা এলাকা থেকে পুলিশ কুরবানী ঈদের আগে পুরুষ ও মহিলাসহ ৮জন আটক করেছিল। পরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয় । পরে তারা জামিনে বের হয়ে আসে।
অভিযোগে জানা গেছে, এই হানি ট্যাব পরিচালনা করেন মেহজাবিন, ওরফে ওয়ান টাইম লিজা, এর সহযোগী হিসেবে কাজ করে হানি ট্যাব সদস্য লুবনা মাদক সেবনকারী, রাতুল মাদক সরবরাহকারী, মেহেদী মাদক বিক্রেতা ছিনতাইকারী ও কিশোরগ্যাং এর সদস্য, এছাড়া কিশোরগ্যাং এর সদস্য আরো অনেক রয়েছে।
যেভাবে চলে প্রতারণা:
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চক্রের নারী সদস্যরা প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপ) ভুক্তভোগীদের সাথে সুসম্পর্ক বা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর কৌশলে তাদের নির্জন কোনো বাসা বা হোটেলে ডেকে নেয়। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা চক্রের অন্য সদস্যরা ভুক্তভোগীকে জিম্মি করে আপত্তিকর অবস্থায় ভিডিও ধারণ করে ।
ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজি:
ভিডিও ধারণের পর শুরু হয় আসল অত্যাচার। ধারণকৃত ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করা হয়। লোকলজ্জার ভয়ে অনেকে নিজের জমানো সব টাকা ও মূল্যবান অলঙ্কার দিয়েও এই চক্রের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না।
চক্রটি পুলিশ বা প্রশাসনের পরিচয় দিয়েও অনেক সময় মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে থাকে।
ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ:
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী জানান, “পরিবার ও সমাজের ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারছি না। তারা ধাপে ধাপে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তবুও তারা ভিডিও ডিলিট করার নাম করে আরও টাকা চাইছে।”
প্রশাসনের পদক্ষেপ:
মিরপুর এলাকার গোয়েন্দা বিভাগ ও স্থানীয় পুলিশ ইতোমধ্যে এই চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্যকে চিহ্নিত করেছে। সম্প্রতি রাজধানী ও এর আশেপাশে বেশ কিছু ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সাধারণ মানুষকে অপরিচিত কারো সাথে বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
সতর্কতা:
অপরিচিত কারো সাথে নির্জনে দেখা করতে যাওয়া বা সোশ্যাল মিডিয়ায় অতি ঘনিষ্ঠ হওয়ার আগে সচেতন থাকা জরুরি। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে পড়লে সাথে সাথে নিকটস্থ থানায় বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে সাহায্য নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন।


















