
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের এক শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোড এলাকা থেকে অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপহরণের পর তাকে মারধর করা হয় এবং তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন শেখ মুজিবুর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আহমেদ আল সাবাহ।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিচালিত ফেসবুক গ্রুপ ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদে’ ঘটনাটির বিস্তারিত তুলে ধরেন।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর মো. ইসরাফিল রতনও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আহমেদ আল সাবাহ জানান, শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থী আতিক আল রাহাত (কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডার বিভাগ, ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষ) ক্যাম্পাসের ফুলার রোড এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তির হাতে অপহৃত হন।
তাকে অজ্ঞান করে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অপহরণের আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর রাহাতের মোবাইল ফোন থেকেই তার পরিবারের কাছে কল করে অপহরণকারীরা ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
এ সময় তারা রাহাতকেও পরিবারের কাছে টাকা চাইতে বাধ্য করে।
এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে রাহাতের দুই আত্মীয়কে শাহবাগ থানায় পাঠানো হয়। তবে এর আগেই অপহরণকারীরা তাকে মারধর করে ছেড়ে দেয় বলে জানান আহমেদ আল সাবাহ।
তিনি বলেন, মুক্তি পাওয়ার পর রাহাত একটি মুদি দোকানির মোবাইল ফোন থেকে যোগাযোগ করেন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে ওই দোকানির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে নিরাপদে রাখার অনুরোধ জানানো হয়। একই সময়ে রাহাতের দুই কাজিন ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেন। রাত আনুমানিক ১টা ৪০ মিনিটে মিরপুর-১ এলাকার নবাবের বাগ, পাকার মাথা এলাকা থেকে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে শেখ মুজিবুর রহমান হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) মুসলিমুর রহমান বলেন, তিনিই প্রথম বিষয়টি জানতে পারেন। তবে সে সময় তিনি ঢাকার বাইরে থাকায় হল সংসদের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
তিনি জানান, রাহাত আজিমপুরে টিউশনি করতে যাচ্ছিলেন। ঠিক কোন স্থান থেকে তাকে অপহরণ করা হয়েছে, তা তার মনে নেই। তবে ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরেই ঘটেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এটি ফুলার রোড অথবা সলিমুল্লাহ মুসলিম হলসংলগ্ন সড়কের কোথাও হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর মো. ইসরাফিল রতন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরই মধ্যে অপহরণকারীরা রাহাতকে ছেড়ে দেয়।
তিনি আরও বলেন, রাহাত বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে রয়েছেন। তার মানসিক অবস্থা স্বাভাবিক হলে বিস্তারিত কথা বলে ঘটনার প্রকৃত বিবরণ জানা যাবে।


















