
রাজধানী ঢাকার ৪১৬ বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বহুমাত্রিক সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের চলচ্চিত্রের গৌরবময় অধ্যায় স্মরণে সপ্তাহব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসব শুরু হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে শনিবার বিকালে রাজধানীর মতিঝিলের মধুমিতা সিনেমা হলে ‘হৃদয়ে ঢাকা-৪১৬’ উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।
উৎসবে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের বরেণ্য শিল্পী, কলাকুশলী, সাংবাদিক এবং ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত মধুমিতা হলে বিনামূল্যে বিভিন্ন সময়ের ১৪টি উল্লেখযোগ্য বাংলা চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে চলচ্চিত্রের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে তা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা সম্ভব।
দেশে সিনেমা হলের সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, একসময় সারা দেশে সাড়ে আটশোর বেশি সিনেমা হল থাকলেও বর্তমানে সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ডিজিটাল যুগে দর্শকদের রুচি ও চলচ্চিত্র দেখার ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। তাই দর্শকদের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণে গুরুত্ব দিতে হবে। চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশে সরকারের নীতিগত সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে পুনরায় গতিশীল করতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে সমন্বিতভাবে কাজ করবে। দর্শকদের ভালো সিনেমা উপহার দিতে পারলে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে আবারও সুদিন ফিরবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বলেন, ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে চলচ্চিত্রের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে একটি জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি, আন্দোলন-সংগ্রাম ও মানুষের জীবনযাত্রা প্রজন্মের পর প্রজন্ম তুলে ধরা সম্ভব।
তিনি বলেন, চলচ্চিত্র ছাড়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাস যথাযথভাবে চিত্রায়িত করা সম্ভব নয়। ঢাকার গৌরবময় ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দেশ-বিদেশে তুলে ধরতেই এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি নগরবাসীকে পরিবার-পরিজন নিয়ে মধুমিতা হলে এসে বিনামূল্যে চলচ্চিত্র উপভোগের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী সুজাতা আজিম, সুচন্দা, আনোয়ারা, ববিতা, নূতন, চম্পা ও শাবনাজ; অভিনেতা উজ্জ্বল, সোহেল রানা ও আলমগীরসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিভিন্ন শিল্পী ও কলাকুশলীকে সম্মাননা দেওয়া হয়। গীতিকার, সংগীতশিল্পী, সংগীত পরিচালক, চিত্রগ্রাহক, পরিচালক ও চলচ্চিত্র সাংবাদিকদেরও সম্মাননা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া দেশের চলচ্চিত্রের প্রয়াত বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া হয়। ঢাকার চলচ্চিত্র সংস্কৃতির ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত লায়ন সিনেমা হল, আজাদ সিনেমা হল ও মধুমিতা সিনেমা হলকেও বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়।
উৎসবে যা থাকছে:
উৎসবে প্রতিদিন বিকেল ৩টা ও সন্ধ্যা ৬টায় দুটি করে চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে। শনিবার সন্ধ্যায় প্রদর্শিত হয় ‘মুখ ও মুখোশ’। ২৩ আগস্ট ‘নবাব সিরাজদ্দৌলা’ ও ‘১৩ নং ফেকু ওস্তাগার লেন’, ২৪ আগস্ট ‘জীবন থেকে নেওয়া’ ও ‘নান্টু ঘটক’, ২৫ আগস্ট ‘অশিক্ষিত’ ও ‘রংবাজ’, ২৬ আগস্ট ‘সবুজ সাথী’ ও ‘নাচের পুতুল’, ২৭ আগস্ট ‘দূরদেশ’ ও ‘দহন’ এবং ২৮ আগস্ট ‘দোস্ত দুশমন’ ও ‘বধু বিদায়’ প্রদর্শিত হবে।


















