Daily Samadhan
Monday , 24 August 2026 | ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নুসরাত হত্যাকাণ্ড ১৬ জনের মধ্যে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল, যাবজ্জীবন ৪, খালাস ১০ রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের পরিবার, চাইলেন নিরাপত্তা

প্রতিবেদক
আদালত প্রতিবেদন
August 24, 2026 10:50 pm

বহুল আলোচিত ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় ১৬ আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে চারজনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাকি ১০ আসামি খালাস পেয়েছেন। এছাড়া জেলা আদালতের রায়কে ‘বিবেচনাহী সাজা’ উল্লেখ করে বিচারক মামুনুর রশীদকে বিচারিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। দীর্ঘ ৭ বছর পর উচ্চ আদালতের দেওয়া এ রায়ে সন্তুষ্ট জানিয়ে দ্রুত কার্যকর ও নিজেদের নিরাপত্তাও চেয়েছেন নুসরাতের পরিবার।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সোমবার হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে আলোচিত এ রায়ে বহাল থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম। মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া চারজন হলেন- নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের এবং উম্মে সুলতানা ওরফে পপি। এ ছাড়া খালাস পাওয়া ১০ আসামি হলেন- কামরুন নাহার মনি, হাফেজ আবদুল কাদের, মাহি উদ্দিন শাকিল, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, আবদুর রহিম শরীফ, মোহাম্মদ শামীম, ইফতেখার উদ্দিন রানা, রুহুল আমিন, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি ও মাদরাসার সাবেক সহ-সভাপতি আফসার উদ্দিন এবং সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর মাকসুদ আলম।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

উচ্চ আদালতের এমন রায়ের পর নুসরাতের মা শিরিন আক্তার সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া এলাকায় নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, রায়ে আমি সন্তুষ্ট, আলহামদুলিল্লাহ। নুসরাতের মা আরও বলেন, ঘটনার পর নুসরাতের মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু হাইকোর্টের রায়ে আবারও প্রমাণ হয়েছে, এটি হত্যাকাণ্ড।

শিরিন আক্তার অভিযোগ করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হত্যাকারীদের পক্ষ থেকে প্রচার করা হয়েছিল, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। উচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে। নুসরাতের মা আরও বলেন, আমাকে ও আমার সন্তানদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমি তিন সন্তানের নিরাপত্তা চাই।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় কয়েকজন বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে কিছুটা হলেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি দেশের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। তারা বলেন, নিম্ন আদালতে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায় নিয়ে সে সময় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। উচ্চ আদালতের রায়ে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে বিচারকদেরও রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তা যাবে বলে তারা মনে করেন। তারা বিচারাধীন মামলাগুলোর রায় দ্রুত বাস্তবায়নেরও দাবি জানান। তাদের মতে, দ্রুত সময়ে বিচার শেষ করে রায় দেওয়া হলে বাদী ও আসামি- উভয় পক্ষের পরিবারের জন্যই তা ভালো। এদিকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নুসরাতের পরিবারের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করতে দেখা গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফেনী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক পলাশ চন্দ্র রায় জানান, আলোচিত এ রায়কে কেন্দ্র করে কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে নুসরাতের পরিবারের বাড়ির আশপাশে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিচারিক আদালতের রায় নিয়ে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণঃ

নুসরাত হত্যা মামলায় জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আদেশটি যথাযথ ছিল না। ওই মামলায় ফেনী জজ কোর্টের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ যথাযথভাবে বিচারিক মানসিকতা প্রয়োগ করেননি- পর্যবেক্ষণে এমন অভিমত দিয়েছেন হাইকোর্ট। তাকে ফৌজদারি মামলা পরিচালনা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বিচারিক বিবেচনাবোধ প্রয়োগ না করে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়ে আদালত বলেছেন, বিচারিক আদালত এভাবে নির্বিচারে ফাঁসি দিতে গিয়ে যেভাবে প্রতিটি পরিবারের উপর একটা ডিভাস্টেটিং ইফেক্ট (বিপর্যয়) নেমে এসেছে, এইজন্য তার বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হলো এবং তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করতে নির্দেশ দেয়া হলো।

এদিকে, রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, হাইকোর্ট বলেছেন, মামলার বিচারক মামুনুর রশীদ প্রত্যেক আসামির পৃথক ভূমিকা ও ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার মাত্রা যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই সাজা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, বিচারিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পূর্ণাঙ্গ বিচারিক বিবেচনা প্রয়োগে ব্যর্থ হয়েছেন ওই বিচারক। তাই ফৌজদারি মামলার বিচার ও সাজা দেওয়ার দায়িত্ব থেকে তাকে অবিলম্বে সরিয়ে নিতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

যেভাবে হত্যা করা হয় নুসরাতকেঃ

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদরাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। অগ্নিসন্ত্রাসের এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দেন। রায়ে বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। নুসরাত হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামি হলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদরাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান, মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মণি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।

ডেথ রেফারেন্সের জন্য নুসরাত হত্যা মামলার রায়সহ নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে পৌঁছায়, যা ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের জন্য পেপার বুক তৈরি করা হয়। আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।

রায়ে যা বলেছেন আদালতঃ

রায়ে উচ্চ আদালত বলেছেন, আসামি এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা নুসরাত হত্যাকাণ্ডের মূল ষড়যন্ত্রকারী। ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ তিনি নুসরাতকে শ্লীলতাহানি করেন। ওই ঘটনায় করা মামলায় জেলে থাকা অবস্থায় অন্যান্য আসামির সঙ্গে মিলে নুসরাতকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন তিনি। অর্থাৎ শ্লীলতাহানির ঘটনাকে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। আদালত বলেন, অন্যান্য আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণে সিরাজ-উদ-দৌলার মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়েছে। ফলে হত্যাকাণ্ডের দায় সর্বোপরি তার ওপরই বর্তায়। এ কারণে বিচারিক আদালতের দেয়া তার মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখেছেন। অন্যদিকে শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার ক্ষেত্রে আদালত বলেন, হত্যাকাণ্ডের আগে নুসরাতকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলেন শামীম। নুসরাত সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তার ওপর শামীমের আক্রোশ তৈরি হয়। এছাড়া, সিরাজ-উদ-দৌলা গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার মুক্তির দাবিতে গঠিত ‘অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা মুক্তি পরিষদ’-এর আহ্বায়ক ছিলেন শামীম। পরে কারাগারে গিয়ে সিরাজ-উদ-দৌলার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নুসরাতকে হত্যার ষড়যন্ত্রেও তিনি অংশ নেন। সাক্ষ্য-প্রমাণে এসব বিষয় উঠে এসেছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। আদালত আরও বলেন, হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেছিলেন শামীম। তার নিজের এবং মামলার অন্য আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেও বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। ফলে হত্যাকাণ্ডের দায় থেকে শামীমকে অব্যাহতি দেয়ার সুযোগ নেই। এ কারণে তার মৃত্যুদণ্ডও বহাল রাখা হয়েছে।

এছাড়া, রায়ে চার আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়ার কারণও ব্যাখ্যাও করেছেন উচ্চ আদালত। আদালত বলেন, যাবজ্জীবন পাওয়া চার আসামিই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নিজেদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। তবে তারা দাবি করেছেন, নির্যাতন করে তাদের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছিল। কিন্তু এ দাবির পক্ষে তারা আদালতে কোনও প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। তবে সহআসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ওই চার আসামির অপরাধে সম্পৃক্ততার কথা উঠে এলেও অনেক ক্ষেত্রে সেসব বক্তব্য ছিল এক্সকালপেটরি, অর্থাৎ নিজেদের দায় কমানো বা অন্যকে দায়ী করার ধরনের। আবার এক আসামির স্বীকারোক্তির সঙ্গে অন্য আসামির স্বীকারোক্তিরও সব ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য ছিল না।

উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ, চার আসামি ও তাদের সহআসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। এ কারণে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া মামলার আরও ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের আপিল মঞ্জুর করেছেন উচ্চ আদালত। বিচারিক আদালতের দেয়া সাজা বাতিল করে তাদের মামলার অভিযোগ থেকে খালাস দেয়া হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা নুসরাতকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৬ এপ্রিল নুসরাত ওই মামলা প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মাদরাসার ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল ২০১৯ তিনি মারা যান।

এদিকে, ২০১৯ সালে ফেনী জেলা আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদ নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দেন। গত ২০ আগস্ট নুসরাত হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষ মামলার নথিপত্রসংবলিত পেপারবুক উপস্থাপনের মাধ্যমে শুনানি শুরু করে।

সর্বশেষ - ব্রাহ্মণবাড়িয়া

আপনার জন্য নির্বাচিত

ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা থেকে বিপুল টাকা আত্মসাৎ

হাসিনা-সংশ্লিষ্টদের জব্দ করা ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদের ৮০ শতাংশই দুদকের নিয়ন্ত্রণের বাইরে

আজ পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা

জুলাইয়ে আন্দোলনকারীদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ, হাসিনার ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে

ডিজি ছাড়া ইসিতে এনআইডি সেবা বন্ধ, সেবা মিলবে মাঠে

এআই বিচারব্যবস্থার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে: আইনমন্ত্রী

ডিমলায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা উদ্বোধন

দেশের সব হাসপাতালের জন্য জরুরি ৬ নির্দেশনা

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ-২০২৬,‘টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে আর্সেনালকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন পিএসজি’

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল দেওয়া ৭ কিংবদন্তি