
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতার যে স্খলন দেখা যাচ্ছে, তা থেকে তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। নৈতিক অবক্ষয় রোধে সরকার জাতীয় কারিকুলামে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে ।
গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী স্কাউটদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্কাউটসের উন্নয়নে আরও পাঁচ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।
স্কাউটিং থেকে অনেক কিছু শেখার আছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জনসেবা, নের্তৃত্ব ও জনগণকে ভালবাসা এসব বিষয় স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে শেখা যায়। যারা স্কাউট করছেন, তারাই আগামীতে নেতৃত্বের আসনে বসবে।
তিনি বলেন, আমরা চাই মাদকমুক্ত এবং নৈতিকতা গুণসম্পন্ন একটি জাতি গড়ে তুলতে। এজন্য বর্তমান সরকার শিক্ষার উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। শিক্ষার উন্নয়নে স্কুল ড্রেস বিতরণ, সারাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মিডডে মিল চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া স্কাউটসের উন্নয়নে একটি পৃথক স্কিম গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের প্রধান সম্পদ হলো মেধাবী তরুণ সমাজ। তাই, আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে তরুণ ও মেধাবীদের গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী এমন শিক্ষাব্যবস্থা ও বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান, যা শিক্ষার্থীদের কেবল প্রাতিষ্ঠানিক সনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবে না; বরং তাদের সৎ, যোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলবে। পরীক্ষায় দারুণ ফলের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে স্কাউট ও রোভার স্কাউটদের অগ্রণী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, পাবলিক পরীক্ষায় ভালো ফল কোনো শেষ নয়, বরং এটি বড় লক্ষ্য অর্জনের প্রাথমিক ধাপ মাত্র। জীবনে চ্যালেঞ্জ কিংবা ব্যর্থতা এলেও হতাশ না হয়ে নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে।
বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান জাতীয় কমিশনার এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ স্কাউটসের সভাপতি ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ এহছানুল হক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্কাউটসের ১৩টি অঞ্চল থেকে ৫৮০ জন মেধাবী স্কাউট ও রোভার স্কাউট অংশ নেন এবং অভিনন্দন পত্র ও মেডেল গ্রহণ করেন। একই সাথে তাদের নির্ধারিত প্রাইজমানি প্রদান করা হয়।


















