Daily Samadhan
Thursday , 5 November 2026 | ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নিন, না হলে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না: সেলিম উদ্দিন

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
November 5, 2026 5:56 pm

সরকারের উদ্দেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, ক্ষমতা পরিচালনা ও দেশ পরিচালনা এত সহজ বিষয় নয়। আপনারা দেশ চালাতে পারছেন না। কার্ড বিতরণ করেন আর যা-ই করেন, এসব দিয়ে জনগণকে বোঝাতে পারবেন না। জনগণকে যদি আপনারা ক্ষুব্ধ করে তোলেন এবং আপনাদের ওপর জনগণের আস্থা না থাকে, তাহলে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না।

দফায় দফায় জ্বালানি গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের উদ্যোগে এ বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
সেলিম উদ্দিন বলেন, আমরা ব্যক্তিগত দাবি দাওয়া প্রতিষ্ঠা করতে এখানে আসিনি। কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে কিংবা কোনো দলকে গালিগালাজ করতে বা বিতর্কিত করতেও আসিনি। আমরা এসেছি জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য।

তিনি বলেন, বাজারে গিয়ে মানুষের চোখেমুখে হতাশা ও অস্বস্তি দেখা যায়। মানুষের আয় এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে কোনোভাবেই সামঞ্জস্য নেই। দফায় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে, বিদ্যুতের দাম বাড়ছে, কিন্তু মানুষের আয় সেই অনুপাতে বাড়ছে না।
তিনি আরও বলেন, অবিলম্বে বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। ন্যায্যমূল্যে জনগণের কাছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। দেশের জনগণকে অস্তিত্বসংকট ও অনিরাপত্তার মধ্যে রেখে উন্নয়নের ফানুস উড়ানো যাবে না। কৃষক ও শ্রমিক ও মা বোনদের মুখে হাসি ফোটাতে হবে এবং আয় ব্যয়ের সামর্থ্যের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছু রাখতে হবে।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনেরা তাদের বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। তারা কি কোনো অন্যায় করেছেন? আজ বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের যে মূল্যবৃদ্ধি ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি, তা যদি আপনারা বুঝতেন, তাহলে শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ করতেন না। একজন শ্রমিক ভাইকে জীবন দিতে হতো না। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি অবিলম্বে মেনে নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও চাকরি থেকে ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে। তাদের মাসিক বেতন যথাসময়ে পরিশোধ করতে হবে।

শ্রমিকদের আন্দোলনকে ন্যায্য উল্লেখ করে সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘আপনাদের আন্দোলন ন্যায্য। কিন্তু গাড়ি ভাঙচুর কিংবা কারখানায় আগুন দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ন্যায্য আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না। এ বিষয়ে আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে। কোনো তৃতীয় শক্তি যেন আপনাদের ব্যবহার করে এবং আপনাদের ন্যায্য দাবিকে জনসমর্থন থেকে দুর্বল করে দিতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
তিনি বলেন, শ্রমিক ভাইদের অনুরোধ করব, আমরা আপনাদের পাশে আছি। তার মানে এই নয় যে, গাড়ি ভাঙচুর করবেন কিংবা কারখানায় আগুন দেবেন, আর আমরা সেসব কর্মকাণ্ডের পক্ষেও থাকবো। শ্রমিক ভাইদের প্রতি আমাদের আহ্বান, আপনারা আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না।

চলমান শ্রমিক আন্দোলনে ভাঙচুর ও নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে সরকার কুসুম কুসুম সম্পর্ক রাখতে পারে না। চলমান শ্রমিক আন্দোলনে কারা ভাঙচুর ও নাশকতা করার চেষ্টা করছে, সরকারকে তা খুঁজে বের করতে হবে।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করার সমালোচনা করে সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে সরকার বিভাজনের সূচনা করেছে। অথচ গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এই সরকারের উচিত ছিল সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা। কিন্তু এর পরিণতি সরকারকেই ভোগ করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা সরকারকে বলছি, আপনারা জনকল্যাণমুখী কাজে মনোনিবেশ করুন। অবিলম্বে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সঙ্গে বসে তাদের ন্যায্য দাবি পূরণ করুন।’
সেলিম উদ্দিন আরও বলেন, আমরা এমন একটি দেশ চাই না, যেখানে কৃত্রিমভাবে উন্নয়নের কথা বলা হবে, অথচ দেশের জনগণের বাস্তব জীবনমানের কোনো উন্নতি হবে না।
ফ্যাসিবাদী শক্তি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারকে বিষয়টি বুঝতে হবে। এই বাংলাদেশ আমাদের সবার। এই বাংলাদেশ নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলবে, তা আমরা হতে দেব না।

সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য জামাল উদ্দিন, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদি, মাওলানা কুতুবউদ্দিন, ফজলে আহমেদ ও মিজানুর রহমান খান।

উত্তর বাড্ডা ব্রিজের নিচে সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাড্ডা ইউলুপের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে শত শত নারী হাড়ি-পাতিল ও এলপিজি গ্যাসের ফেস্টুন নিয়ে অংশ নেন।##

সর্বশেষ - ব্রাহ্মণবাড়িয়া

আপনার জন্য নির্বাচিত

কুমিল্লা দেবিদ্বারে বাড়ির মালিককে খুন, ৯ প্যাকেটে মিলল খণ্ডিত লাশ, আটক-১

প্রবাসীদের জন্য বিশেষ অ্যাকাউন্ট সুবিধা চালু করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

হৃদয়ে প্রাণ সঞ্চার, পাকিস্তানের বিপক্ষে লড়াকু পুঁজি

বিশ্ব রাজনীতিতে চিরস্থায়ী বন্ধু নেই, আছে শুধু বেচাকেনা

পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়

দাউদকান্দিতে ৫ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার, পরোয়ানাভুক্ত আরও ২

তথ্য-প্রযুক্তি ‘২০৩০ সালেই মানুষকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে এআই

কুমিল্লায় ক্যান্সার আক্রান্তদের মাঝে নগদ সহায়তা ও ঔষধি চারা বিতরণ

কঠোর নিরাপত্তায় বিমানবন্দর থেকে রূপপুরে নেওয়া হচ্ছে ইউরেনিয়াম

জুলাই আন্দোলনের ‘নায়ক’ কে? সংসদে বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য