Daily Samadhan
Thursday , 2 July 2026 | ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্দান্ত খেলে ২-০ তে ৮৬ মিনিট এগিয়ে থেকেও কান্নায় ভেসে বিশ্বমঞ্চ থেকে বিদায় সেনেগাল

প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
July 2, 2026 12:53 pm

ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম অবিশ্বাস্য, রোমাঞ্চকর ও অবর্ণনীয় এক গল্প রচিত হলো সিয়াটলে। বিশ্বকাপে ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন একটি কীর্তি গড়ল বেলজিয়াম। ৩-২ গোলে ম্যাচ জিতে সেনেগালকে কান্নায় ভাসিয়ে শেষ ষোলোতে পা দেয় রেড ডেভিলরা।

খেলার শুরু থেকেই দুর্দান্ত বল পাসিং, ড্রিবলিং ও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে টানা ৮৬ মিনিট পর্যন্ত বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল আফ্রিকার অদম্য সিংহ সেনেগাল। এরপর ঘটে গেল একের পর এক নাটকীয়তা।৯০ মিনিটের নির্ধারিত সময়ে খেলার শেষ বাঁশি বাজার আগে মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে বেলজিয়াম শোধ করে দিলো গোল দুটি। ২-২ গোলে সমতা, এরপর খেলা গড়ালো অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। এখানেও সমতাতেই শেষ হতে যাচ্ছিল। কিন্তু ভাগ্য সহায় না থাকায় আচমকা বেলজিয়ামের পক্ষে পেনাল্টি দিয়ে দিলেন রেফারি। যদিও বিতর্কিত ভিএআরের সাহায্য নিয়েছেন তিনি। অন্তিম মুহূর্তে পেনাল্টিটা দিয়েই সেনেগালের বিদায় ঘণ্টা নিশ্চিত করে দেওয়া হয়। এরপর স্পট কিক নিয়ে শেষ ষোলোতে পৌঁছার আনুষ্ঠানিকতা সারেন শুধু তিলেমান্স।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

শ্বাসরূদ্ধকর এবং নাটকীয় ম্যাচে আফ্রিকান সিংহ সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠে গেলো বেলজিয়াম। বিদায় হয়ে গেলো সেনেগালের। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার মুহুর্তেই কান্নায় ভেঙে পড়েন আফ্রিকার অদম্য সিংহ সাদিও মানের সেনেগালের সতীর্থরা। গ্যালারির একপাশে বেলজিয়াম সমর্থকদের উল্লাস, আরেকপাশে সেনেগালের স্বপ্ন হাতছাড়ায় সমর্থকদের হতাশা।

নির্ধারিত সময়ে ২-২ সমতার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। যখন মনে হচ্ছিল টাইব্রেকারই ভাগ্য নির্ধারণ করবে, তখন ১২৫তম মিনিটে ইউরি তিলেমান্সের পেনাল্টির গোলে ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে বেলজিয়াম।

শুরু থেকেই ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল সেনেগালের হাতে। প্রথমার্ধে তারা বেলজিয়ামকে কার্যত চেপে ধরে। ১৪ মিনিটে ইসমাইলা সার পোস্টে বল মারেন, এরপর ২৫ মিনিটে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত গোল আসে। সাদিও মানের দারুণ ক্রসে সারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে এলে দ্রুততম সময়ে বল জালে ঠেলে দেন হাবিব দিয়ারা।

বিরতির পরও আক্রমণের ধার কমায়নি সেনেগাল। ৫০ মিনিটে দিয়ারার সামনে সহজ সুযোগ এলেও তিনি কাজে লাগাতে পারেননি। তবে এক মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইসমাইলা সার। মুসা নিয়াখাতের দীর্ঘ পাস বুকে নামিয়ে অসাধারণ ভলিতে থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন ক্রিস্টাল প্যালেস ফরোয়ার্ড। টুর্নামেন্টে এটি ছিল তার চতুর্থ গোল, যা ১৯৯০ সালে রজার মিলার পর এক বিশ্বকাপে কোনো আফ্রিকান ফুটবলারের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে তাকে ভাগ বসায়।

২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর বেলজিয়াম কোচ একের পর এক পরিবর্তন আনেন। বিরতিতেই মাঠে নামানো হয় রোমেলু লুকাকুকে। এরপর ডোদি লুকেবাকিও, দিয়েগো মোরেইরা ও থমাস মুনিয়েরকে নামিয়ে আক্রমণে নতুন গতি আনার চেষ্টা করেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত সেই পরিবর্তনের সুফল আসে ম্যাচের শেষ পাঁচ মিনিটে। ৮৬ মিনিটে মুনিয়েরের ক্রস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশে ব্যবধান কমান লুকাকু। বিশ্বকাপে বদলি হিসেবে নেমে এটি ছিল তার তৃতীয় গোলের অবদান।

এরপর মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। ৮৯ মিনিটে লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের ভাসানো ক্রসে গোলরক্ষক এদুয়ার্দ দিয়াওকে হারিয়ে হেডে জাল খুঁজে নেন ইউরি টিলেমান্স। ২-২ সমতায় ফিরেই ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায় বেলজিয়ানরা। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে দুই দলই সতর্ক ফুটবল খেলায় বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। সেনেগালও ধীরে ধীরে রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে, আর বেলজিয়াম ক্রমাগত ক্রস ও লং বলের মাধ্যমে সুযোগ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যায়।

ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত আসে অতিরিক্ত সময়ের শেষদিকে। ১১৮ মিনিটে দিয়েগো মোরেইরার ক্রস থেকে লুকেবাকিওর শট ক্রসবারে লাগে। একই আক্রমণে টিলেমান্সকে বক্সে ফেলে দেন লামিন কামারা। প্রথমে রেফারি খেলা চালিয়ে দিলেও ভিএআরের পর মনিটরে দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন।

পেনাল্টি নেওয়ার আগে সেনেগালের খেলোয়াড়দের তীব্র প্রতিবাদ, ধস্তাধস্তি ও দীর্ঘ বিরতিতে ম্যাচে উত্তেজনা চরমে ওঠে। তবে সব চাপ সামলে ১২৫তম মিনিটে টিলেমান্স ডান দিকের উপরিভাগে নিখুঁত শটে গোলরক্ষক দিয়াওকে ভুল পথে পাঠিয়ে বল জালে জড়ান। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটিই অতিরিক্ত সময়ে সর্বশেষ মুহূর্তে করা জয়সূচক গোলগুলোর একটি। শেষ বাঁশি বাজার আগে সেনেগাল আর ফিরতে পারেনি। শেষ সুযোগে এমবায়ের শট কোর্তোয়ার হাতে জমা পড়ে, এরপরই শেষ হয় রুদ্ধশ্বাস লড়াই।

পুরো ম্যাচে দীর্ঘ সময় সেনেগালই ছিল সেরা দল। তারা সুযোগ তৈরি করেছে বেশি, আক্রমণেও ছিল ধারালো। কিন্তু শেষ কয়েক মিনিটে অভিজ্ঞতার জোরে ম্যাচে ফিরে আসে বেলজিয়াম। লুকাকুর গোল, টিলেমান্সের জোড়া গোল এবং শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি—সব মিলিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে ইউরি গার্সিয়ার দল। অন্যদিকে দারুণ ফুটবল খেলেও শেষ মুহূর্তের হতাশায় তীরে এসে তরী ডুবিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো আফ্রিকার অদম্য সিংহ সাদিও মানের সেনেগালকে।

সর্বশেষ - ব্রাহ্মণবাড়িয়া

আপনার জন্য নির্বাচিত

হাম ও উপসর্গে প্রাণহানি বেড়ে ৮৩১

চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এখনই সময়

সব উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে অনলাইনে ভবন নকশা অনুমোদনের কার্যক্রম চালুর নির্দেশ

নতুন ভোটার নিবন্ধনের সময়সীমা এক মাস বাড়ালো ইসি

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে সশস্ত্র হামলা, নিহত ১

মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানালো ইরান

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের সম্পদ যাচাইয়ে দুদকের কমিটি গঠন

নাসিরনগরে আইএফআইসি ব্যাংকের ৫০ বছর পূর্তিতে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

টানা ৪০ বছর আজান, শেষে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে সম্মানের বিদায় মুয়াজ্জিনের!