
সরকারি দল বিএনপির ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে এখন পরিবর্তনের প্রবল হাওয়া। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে রাজপথের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, জেল-জুলুম এবং সর্বশেষ চব্বিশের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির প্রেক্ষাপট পুরোপুরি বদলে গেছে।
গতানুগতিক স্লোগান আর পেশীশক্তির রাজনীতির দিন শেষ। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনন ও মেধার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে কোনো ছাত্রসংগঠনের পক্ষেই আর টিকে থাকা সম্ভব নয়।
এই চরম বাস্তবতাকে সামনে রেখে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে ছাত্রদলকে নতুন করে সাজানোর এক যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড।
সূত্র বলছে, ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবার সংগঠনের কমিটির স্বচ্ছতার বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছেন।
অতীতের মতো কোনো সিন্ডিকেট, লবিং বা তদবির এবার আর ধোপে টিকছে না। মাঠপর্যায়ের বাস্তব রিপোর্ট এবং নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে যেকোনো মুহূর্তে বা চলতি আগস্ট মাসের প্রথমার্ধেই ঘোষণা হতে পারে ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি। ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে কাউন্টডাউন।
দলীয় সূত্র বলছে, বিএনপির হাইকমান্ড এমন এক নেতৃত্ব খুঁজছে, যারা শুধু রাজপথে আগুন ঝরানো স্লোগানই দেবেন না, বরং টেবিলের বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়েও সমান পারদর্শিতা দেখাবেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে যারা আপসহীন থাকবেন। সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে এখন একটাই উৎকণ্ঠা আর উত্তেজনা—কারা ধরছেন নতুন ছাত্রদলের হাল? কে হচ্ছেন আগামীর কাণ্ডারি?
কেন এই পরিবর্তনের তাগিদ?
রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাসির উদ্দীন নাসিরের নেতৃত্বাধীন ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ১ মার্চ। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ছাত্রদলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিগত এই কমিটি সংগঠনকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় গতিশীল করতে পারেনি। বিশেষ করে সংগঠনে গতিশীলতা আনতে গত মে মাসে একযোগে দেশের ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে নতুন ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হলে দেশের বিভিন্ন স্থানে বঞ্চিতরা ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায়।
মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রধান অভিযোগ হলো, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত, ত্যাগী ও রাজপথের সক্রিয় নেতাদের বিগত কমিটিতে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। উল্টো কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিষ্ক্রিয়দের প্রাধান্য দেওয়া, ব্যক্তিনির্ভর বা অনুসারীকেন্দ্রিক পকেট কমিটি গঠন, অছাত্রদের পদায়ন এবং এমনকি ছাত্রলীগের বিতর্কিত কিছু সাবেক নেতাকর্মীকে অন্তর্ভুক্ত করার মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া যায়।
এর মধ্যে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) শাখা ছাত্রদলের ৩২ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ২০২৩ সালের কমিটির পদধারী অন্তত ৮ থেকে ১১ জনকে পদায়ন এবং নোয়াখালীতে সদ্য ঘোষিত কমিটিতে বিবাহিত ও অছাত্রদের প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ মেলে। এসব অভিযোগের সেসব এলাকায় বিক্ষোভ হয়। এছাড়া রাঙামাটিতে জেলা ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষে; বরিশাল, বান্দরবান ও কক্সবাজারসহ অন্যান্য কিছু এলাকাতেও সড়ক অবরোধ, ঝাড়ু মিছিল এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের কুশপুতুল পোড়ানোর মতো ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় শিক্ষাঙ্গনের চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। প্রতিযোগী ছাত্র সংগঠনগুলোর ক্রমবর্ধমান বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংগঠনিক তৎপরতা মোকাবিলায় ছাত্রদলকে ঢেলে সাজানোর কোনো বিকল্প বিএনপির সামনে নেই। আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে ছাত্রদলকে একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও মেধাভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উপস্থাপন করতেই বিএনপির হাইকমান্ড সংগঠন ঢেলে সাজাতে চাইছে।
বিএনপির সূত্র বলছে, নতুন নেতৃত্বে আসতে ছাত্রদলের সম্ভাব্য নেতারা এখন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে শীর্ষ নেতার কাছ থেকেই। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ‘সুপার ফাইভ’ পদে ডজনখানেক নেতার নাম জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে। সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে সংগঠনের ভেতরে-বাইরে চলছে জোর আলোচনা। নেতৃত্বের দৌড়ে থাকা পদপ্রত্যাশীরা ক্যাম্পাসে শোডাউন এবং দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।
সভাপতি পদে যারা আলোচনায়
শীর্ষ পদের দৌড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন ‘ক্লিন ইমেজ’ খ্যাত লড়াকু ছাত্রনেতা আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির ছাত্র ইয়াহইয়া বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্ররাজনীতির এই দীর্ঘ পথচলায় তার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার অন্যায়, চাঁদাবাজি, সিন্ডিকেট বা অনিয়মের অভিযোগ নেই বলে দাবি ইয়াহইয়ার অনুসারীদের। তাদের অভিমত, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে সবসময় নিরাপদ দূরত্বে রাখা এই নেতার রয়েছে রাজপথের ভয়ংকর ও রক্তস্নাত অভিজ্ঞতা।
২০২২ সালের ২৪ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের বর্বরোচিত হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হন ইয়াহইয়া। মাথা ফেটে যাওয়ায় তার ১৭টি সেলাই লাগে এবং পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। ২০২৩ সালে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন প্রবেশমুখে বিএনপি ঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে গাবতলী থেকে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবরণ করেন তিনি। ২৮ অক্টোবর-পরবর্তী শ্বাসরুদ্ধকর হরতাল-অবরোধে ঢাকা মহানগর উত্তর ও পশ্চিমে মূল সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। তার দক্ষ নেতৃত্বেই ওই অঞ্চলে কর্মসূচিগুলো সফল হয়।
সর্বশেষ জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে শাহবাগ, বাংলামোটর, সায়েন্সল্যাব, ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৫ আগস্টের পর গতানুগতিক পেশিশক্তির শোডাউন না করে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইতিবাচক রাজনীতি নিয়ে কাজ করে তিনি হাইকমান্ডের বিশেষ সুনজরে রয়েছেন।
সভাপতি পদে আরেক আলোচিত প্রার্থী হলেন বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি এবিএম ইজাজুল কবির রুয়েল। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় দুইবার ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আটটি মামলার আসামি এবং তিনবার কারাবরণকারী এই নেতা তৃণমূলের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। রাজপথের সক্রিয় ও নির্যাতিত ছাত্রনেতা হিসেবে রুয়েল বলেন, “দায়িত্ব পেলে ছাত্রদলকে সুসংগঠিত করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে সবসময় সোচ্চার থাকবো।
আলোচনায় আছেন বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের ছাত্র আমান এর আগে কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর-পরবর্তী আন্দোলনে গ্রেপ্তার হয়ে দুই মাস কারাগারে ছিলেন তিনি। ৫ আগস্টের পর সংগঠনকে সুশৃঙ্খল করতে এবং ইতিবাচক রাজনীতি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে কাজ করেছেন। আমান অবশ্য জানিয়েছেন, প্রতিহিংসার রাজনীতি বাদ দিয়ে ক্যাম্পাসে মেধার মূল্যায়ন এবং জবাবদিহিমূলক ছাত্ররাজনীতি গড়ে তোলাই তার লক্ষ্য’।
এছাড়া বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি মঞ্জুরুল আলম রিয়াদ, এইচ এম আবু জাফর, শাফি ইসলাম, খোরশেদ আলম সোহেল এবং ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি পদপ্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সভাপতি পদের দৌড়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
সাধারণ সম্পাদক পদে কারা আলোচনায়
সাধারণ সম্পাদক পদে সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম মমিনুল ইসলাম জিসান। বর্তমান কমিটির এক নম্বর যুগ্ম সম্পাদক এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র জিসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। আওয়ামী আমলে একাধিকবার মামলা, হামলা ও কারাবরণের শিকার এই নেতা ২০২৩ সালে ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা জিসান এখনো পর্যন্ত কোনো বিতর্কে জড়াননি। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি তাকে এই দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে রেখেছে।
তৃণমূল থেকে উঠে আসা আরেক লড়াকু নাম সালেহ মো. আদনান। বর্তমান ও সাবেক কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আদনান বরগুনা জেলা ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে এসে ২০১০ সালে ঢাবিতে যুক্ত হন। ১/১১-এর অবৈধ সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় এই নেতা ২০১৬ সালে ঢাবির এস এম হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক থাকাকালে তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের সংগঠন ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হন। রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে হয় তাকে, এরপর তাকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে প্রহসনের নির্বাচন প্রতিরোধ আন্দোলন থেকে শুরু করে কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ছিলেন।
এছাড়া ৫ আগস্টের আন্দোলনে সাহসী ভূমিকা পালনকারী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেনও সাধারণ সম্পাদক পদে শক্ত প্রার্থী। ফারুক বলেন, “দায়িত্ব পেলে ছাত্রদলকে আরও শক্তিশালী করতে সততার সঙ্গে রাজপথে কাজ করে যাব।”
সাধারণ সম্পাদকের দৌড়ে আরও আছেন প্রচার সম্পাদক শরিফ প্রধান শুভ, মো. তরিকুল ইসলাম তারিক, ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, শামিম আকতার শুভ, মাসুম বিল্লাহ এবং সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স।
দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সাংগঠনিক পদের জন্য জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, গাজী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন, সোহেল রানা, ইব্রাহিম খলিল, নাসির উদ্দিন শাওন ও শামিম আক্তার শুভ।
নতুন কমিটির বিষয়ে বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মো. সাদ্দাম হোসেন তার জোরালো অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী (ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। লড়াই-সংগ্রামে পরীক্ষিত এবং সংগঠনকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সকলকে সঙ্গে নিয়ে চলার মতো মানসিকতাসম্পন্ন নেতৃত্ব আসবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।’
ঐতিহাসিকভাবে ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্ব বরাবরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রিক হলেও, এবার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ত্যাগী নেতারাও শক্তভাবে আলোচনায় এসেছেন। এটিকে দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও বিকেন্দ্রীকরণের একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন বিশ্লষকরা।
এই তালিকায় জোরালোভাবে আলোচনায় আছেন বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ থেকে উঠে আসা এবং বর্তমানে এফসিপিএস অধ্যয়নরত এই নেতার বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদের সময় তিনটি মামলা হয় এবং তিনি কারাবরণ করেন। অনুসারীরা মনে করেন, মেধা ও ত্যাগের এক অপূর্ব সমন্বয় রয়েছেন তার মধ্যে।
আরেক অকুতোভয় ত্যাগী নেতা কাজী জিয়া উদ্দিন বাসেত। ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রয়েছে এবং রিমান্ডে তিনি ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দুটি মামলায় সাজাও খেটেছেন তিনি। ২০১৫ সালে অবরোধের সময় এক মর্মান্তিক ঘটনায় একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে পুলিশ তাকে নিচে ফেলে দেয়। এর ফলে তিনি দীর্ঘ ১০ মাস হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এম. রাজীবুল ইসলাম তালুকদার বিন্দু এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার হক মজুমদার শিমুলও তাদের ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে হাইকমান্ডের মূল্যায়নের অপেক্ষায় আছেন।
বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী সূত্রের খবর, এই কাঠামোগত পরিবর্তন কেবল ছাত্রদলেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ দলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকেও ঢেলে সাজানোর মাস্টারপ্ল্যান হাতে নিয়েছে বিএনপি। গত ১৭ বছরের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে যারা সর্বস্ব হারিয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, মাসের পর মাস আয়নাঘর বা কারাগারে কাটিয়েছেন—অথচ বিগত দিনে সিন্ডিকেটের কারণে পদবঞ্চিত হয়েছেন, তাদের উপযুক্ত স্থানে বসানোর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান।
এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শামসুজ্জামান দুদু বাংলানিউজকে বলেন, ছাত্রদলের নতুন কমিটি হওয়া উচিত দেশ এবং দলের প্রতি নিবেদিতপ্রাণদের মধ্য থেকে। ছাত্র অঙ্গনে এবং রাজপথে যারা দৃঢ় অবস্থান করতে পারবেন তাদেরই নেতৃত্বে আসা উচিত।
রাজনীতি বিশ্লেষক প্রফেসর গোলাম হাফিজ বাংলানিউজকে বলেন, প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে ছাত্র রাজনীতির নেতৃত্ব থাকা উচিত। লেজুড়বৃত্তির চেয়ে ছাত্রদের অধিকার আদায়ের যারা অগ্রণী ভূমিকা রাখে তারা মূল্যায়িত হোক। আশা করি নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে ছাত্রদলের রাজনীতির গুণগত মান আরও শক্ত হবে।


















