
শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে উমর মজিদ ইউপি’র দানা নগর বাজারে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পী, শ্রী কমল চন্দ্র মোহন্ত। দিন-রাত পরিশ্রম করে মাটি, খড় ও বাঁশ দিয়ে দেবী দুর্গাসহ বিভিন্ন প্রতিমার অবয়ব তৈরি করছেন কারিগররা। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ।
প্রতিমায় মাটির প্রলেপ, শুকানো, রং ও সাজসজ্জার কাজ শেষ করে পূজা মণ্ডপে পৌঁছে দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।
রাজারহাটের প্রতিমা কারিগর শিল্পী শ্রী কমল চন্দ্র মোহন্ত জানান, প্রতিমা তৈরির কাজ তার কাছে শুধু জীবিকা নয়, এটি বাপ-দাদার ঐতিহ্যবাহী শিল্প। প্রতি বছর দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস আগে থেকেই প্রতিমা তৈরির প্রস্তুতি শুরু করেন তিনি। পূজা যত ঘনিয়ে আসে, কাজের ব্যস্ততাও তত বেড়ে যায়। আরও জানান প্রতিমা নেওয়ার আগ্রহ তারা আমার মোবাইল নাম্বার > 01739-018320. এ যোগাযোগ করে এসে প্রতিমা নিতে পারবেন।
কারিগররা জানান, একটি প্রতিমা তৈরিতে প্রথমে বাঁশ ও খড় দিয়ে কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর কয়েক ধাপে মাটির প্রলেপ দিয়ে প্রতিমার অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়। মাটি শুকানোর পর দেওয়া হয় রং ও বিভিন্ন ধরনের অলংকার। প্রতিমার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে কারিগরদের নিপুণ হাতের পাশাপাশি প্রয়োজন হয় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও ধৈর্যের।
শিল্পী শ্রী কমল চন্দ্র মোহন্ত বলেন, “প্রতিমা তৈরির কাজ আমাদের বাপ-দাদার পেশা। সারা বছর এ কাজের চাহিদা থাকে না। দুর্গাপূজা এলেই আমাদের ব্যস্ততা বাড়ে। প্রতিমা তৈরি শেষ করে এখন ভালো দামে বিক্রি করতে পারব—এই প্রত্যাশায় আছি।”
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিমা তৈরির এই শিল্প রাজারহাটের উমর মজিদ ইউপির দানানগর বাজারে একটি পুরোনো ঐতিহ্য। দুর্গাপূজাকে ঘিরে মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা বাড়লেও মাটি, বাঁশ, খড়, রং ও সাজসজ্জার উপকরণের দাম বাড়ায় অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত লাভ করতে পারেন না তারা। তারপরও ধর্মীয় উৎসব ও পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতিমা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন কারিগররা।
প্রতিমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের দাবি, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা ও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হলে এ শিল্পকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। পাশাপাশি প্রতিমার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা গেলে কারিগরদের আগ্রহ বাড়বে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প টিকে থাকবে।
এদিকে প্রতিমা তৈরির কারিগরদের ব্যস্ততা দেখে রাজারহাটের বিভিন্ন এলাকায় উৎসবের আমেজও ছড়িয়ে পড়েছে। পূজা মণ্ডপগুলোতে চলছে প্রস্তুতি, আর কারিগরদের কর্মশালায় চলছে দেবী দুর্গার রূপ ফুটিয়ে তোলার শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। প্রতিমা তৈরি শেষে ক্রেতা ও পূজা কমিটির হাতে তুলে দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন শিল্পী শ্রী কমল চন্দ্র মোহন্তসহ স্থানীয় মৃৎশিল্পীরা।


















