
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়ে পড়াশোনার প্রতি চীনা শিক্ষার্থীদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। গত তিন বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের বাংলা ভাষার বিশেষ কোর্সে অংশগ্রহণকারী চীনা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ থেকে বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এতে ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে চীনা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৭৩ শতাংশ।
আজ সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত চীনা শিক্ষার্থীরা। ভিসি অফিস সংলগ্ন সভাকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবছার কামালসহ ইনস্টিটিউটের অন্যান্য শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে উপাচার্য বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারে ভাষা ও সংস্কৃতি বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার ও বন্ধুত্বপূর্ণ। চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার। দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, বোঝাপড়া ও বন্ধুত্ব আরও গভীর করতে ভাষা শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, “আমরা চীনা ভাষাসহ তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে চাই। একইভাবে চীনের শিক্ষার্থীরা যাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারে, সে সুযোগও আরও বাড়াতে হবে। ভাষা ও সংস্কৃতির বিনিময় দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।”
ভিসি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও বিদেশি ভাষা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চীনা, জাপানি, কোরিয়ানসহ বিভিন্ন ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কাজ করবে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন ও অবস্থানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কথাও জানান ভিসি। খাবার, ওয়াই-ফাই, আবাসনসহ শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন বিভিন্ন সুবিধা আরও উন্নত করার বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
চীনা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভিসি বলেন, যে দেশে যাওয়া হবে, সে দেশের ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। ভাষা জানলে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হয় এবং পারস্পরিক সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হয়। চীনা শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে এসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানছেন—এটি দুই দেশের মানুষের সম্পর্ক আরও গভীর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
সৌজন্য সাক্ষাতে চীনা শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের পড়াশোনার অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও সমস্যার কথা ভিসির কাছে তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে খাবারের নাম ও মূল্যসহ মেনু প্রদর্শন, ওয়াই-ফাই সুবিধা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। উপাচার্য এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে চীনের দুটি বিশ্ববিদ্যালয়—Guangdong University of Foreign Studies ও Yunnan Minzu University—থেকে মোট ১৫ জন শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষার বিশেষ কোর্সে অংশ নেন।
২০২৫ সালে Yunnan Minzu University, Yunnan University ও Beijing Foreign Studies University থেকে মোট ১৯ জন শিক্ষার্থী এ কোর্সে অংশ নেন।
চলতি ২০২৬ সালে Yunnan Minzu University, Yunnan University, Communication University এবং Guangdong University of Foreign Studies থেকে মোট ২৬ জন শিক্ষার্থী বাংলা ভাষার বিশেষ কোর্সে অংশ নিচ্ছেন।
অর্থাৎ, তিন বছরের ব্যবধানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা শিখতে আসা চীনা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ থেকে বেড়ে ২৬ জন হয়েছে। এই বৃদ্ধি প্রায় ৭৩ শতাংশ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, এ ধারাবাহিকতা বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ভাষা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রতিফলন।

















