
ঘুষ-দুর্নীতি, তদবির-বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ—তবুও বহাল তবিয়তে সিভিল এভিয়েশনের সার্ভেয়ার (ড্রাফ ম্যান) কবির হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাসীনদের প্রভাব ও সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চালিয়ে যাওয়ায়, বিপুল সম্পদের অভিযোগে লিখিত অভিযোগ জমা পড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান তদন্ত বা কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এত অভিযোগের পরও কীভাবে তিনি একই কর্মস্থলে বহাল রয়েছেন—এমন প্রশ্নই এখন সংশ্লিষ্ট মহলে।
আওয়ামীলীগের দোসর এবং অর্থ যোগানদাতা সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের স্টেট শাখার সার্ভেয়ার (ড্রাফ ম্যান) কবির হোসেন এবং তার স্ত্রী সাহারা আক্তার চম্পা, অবৈধভাবে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মালিক বনে গেছেন। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন অভিযোগকারী। মোহাম্মদপুর লালমাটিয়া এলাকার মোতালেব হোসেনের ছেলে মো. মাসুদ রানা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগে লিখিতভাবে অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগের মাধ্যমে জানা যায় , মো. কবির হোসেন সরদার, সার্ভেয়ার, (ড্রাফ ম্যান) স্টেট শাখা (ভুমি), সিভিল এভিয়েশন, বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ, ঢাকায় কর্মরত আছেন। তিনি ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ ভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। তার বাবার নাম জজে আলী সরদার, স্ত্রী- সাহারা আক্তার চম্পা, তার জাতীয় পরিচয়পত্র নং- ৩২৭৫১৬৭৪৭০, স্থায়ী ঠিকানা. গ্রাম: পূর্ব শরিফাবাদ, উপজেলা: গৌরনদী, জেলা: বরিশাল। তার টিআইএন নং- ১৭১৬০৫৭৯৩০৭১, কর সার্কেল- ৭৮, কর অঞ্চল- ৪, ঢাকা। তার বর্তমান ঠিকানা. ১. বাসা- ৫৬, রোড- ০৪, সেক্টর- ১১, উত্তরা, ঢাকা। ঠিকানা- ২. বাসা-১৫, লেন-৩/১, ওয়াড নং-৫০, উদায়ন স্কুল রোড, মোল্লারটেক, থানা: দক্ষিণখান, উত্তরা, ঢাকা। উক্ত বাসায় ৭ম ও ৯ম তলায় দুটি ফ্ল্যাট ছিল বতমানে একটি বিক্রি করেছেন ৮০ লক্ষ টাকায়। আর একটি ফ্ল্যাট এখন ভাড়া দিয়েছেন। তার স্ত্রীর নাম সাহারা আক্তার চম্পা, তার বাবার নাম মো. মৌজে আলী সরদার, স্বামীর নাম. কবির হোসেন, সরদার, পেশা-গৃহিনী, জাতীয় পরিচয়পত্র নং- ৪৬৪৫৮৪৩৭৫৮, তার টিন নং-৬৭১৭৬৫২৭০১০৫, কর সার্কেল-৪৬৬, কর অঞ্চল-২২, ঢাকা। তার বর্তমান ঠিকানা. বাসা-২৯৫/ঝ/৬, জিগাতলা, ঢাকা। তিনি সিভিল এভিয়েশনে চাকুরী করার সুবাদে ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন নামে বেনামে। ঢাকার দক্ষিণখান এলাকার মোল্লারটেক ইরশাল কলোনী রোড এর মাথায় এপিবিএন, পুলিশ হেডকোয়াটার এর পূর্ব পাশে তার বিলাশ বহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়াও উত্তরার ১১ নং সেক্টরে তার ফ্ল্যাট এবং প্লট ও গাড়ী-বাড়ী রয়েছে। তিনি বরিশাল জেলা শহরে একটি অত্যাধুনিক বাড়ী নির্মাণ করেছেন কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করে। মো. কবির হোসেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষে চাকুরী করার কারণে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের ম্যানেজ করে নিয়মিত তদবির বানিজ্য করে দালালির মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বিমানবন্দর এলাকায় সিকিউরিটিদের সঙ্গে আতায়তা করে স্বর্ণ চোরাচালানির সিন্ডিকেট গড়ে তুলে অবৈধভাবে বিভিন্ন প্রকার অপকম করে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহণ করে যাচ্ছেন তিনি। তার অবৈধ সম্পদ এর বিষয়ে সাংবাদিকগণ অনুসন্ধান করতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের চাঁদাবাজ, মাস্তান, সন্ত্রাসী দ্বারা ভয়ভীতি দেখিয়ে তার বিষয়ে অনুসন্ধান বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। মো. কবির হোসেন ও তার পরিবারে অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানকালে যদি কোন সাংবাদিকের ক্ষতি বা হত্যা করা হয় তাহলে তার জন্য মো. কবির হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যগণ দায়ী থাকিবে। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা খুবই জরুরী। উল্লেখ্য যে, তার স্ত্রী একজন গৃহিনী হওয়া সত্বেও তার নামে আয়কর নথি খুলে অবৈধভাবে তার কালো টাকা সাদা বানানের চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য,
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সিভিল এভিয়েশন স্টেট শাখায় কর্মরত সার্ভেয়ার (ড্রাফ ম্যান) মো. কবির হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, তদবির-বাণিজ্য এবং অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন হাবিব আহমেদ নামে এক ব্যক্তি।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, সিভিল এভিয়েশনে চাকরির সুবাদে মো. কবির হোসেন ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। ঢাকার দক্ষিণখান এলাকার মোল্লারটেক-ইরশাল কলোনী রোডের মাথায় এপিবিএন পুলিশ হেডকোয়ার্টারের পূর্ব পাশে তার একটি বিলাসবহুল দুই ফ্ল্যাট রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ফ্ল্যাট তিনি বিক্রি করেছেন যার মূল্য প্রায় ৮০ লাখ টাকা
এছাড়া উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরে তার একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট, গাড়ি ও অন্যান্য সম্পদ থাকারও দাবি করা হয়েছে। নিজ গ্রামের বাড়িতে নামে- বেনাম অঢেল সম্পদ গড়েছেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মন্ত্রী, এমপি ও স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় সিভিল এভিয়েশনের ল্যান্ড বিভাগে থাকা সত্ত্বে একের পর এক অবৈধ ভাবে সিভিল এভিয়েশনের সরকারি সম্পত্তি উলটপালট করে অন্যস্থলে দিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেন সার্ভেয়ার (ড্রাফ ম্যান) কবির হোসেন । বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে সিভিল এভিয়েশনে ল্যান্ড স্টেট শাখায় যেত ধরনের কার্যক্রম রয়েছে তা এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন মো. কবির হোসেন। অভিযোগে আরো জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট শাখার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরকে ম্যানেজ করে এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে একের পর এক দুর্নীতি -অপকর্ম , তকদির বাণিজ্য মাধ্যমে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন কবির হোসেন । অভিযোগকারী দাবি তার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এবং আওয়ামীলীগে দোসর দুর্নীতিবাজ কবির হোসেন এখনো কর্মরত রয়েছেন কি ভাবে ?
মো. কবির হোসেনের স্থায়ী ঠিকানা বরিশাল জেলার গৌড়নদী উপজেলার পূর্ব শরিফাবাদ গ্রামের জজে আলী সরদারের ছেলে তিনি। তার টিআইএন নং-১৭১৬০৫৭৯৩০৭১, কর সার্কেল- ৭৮, কর অঞ্চল-৪, ঢাকা। তার বর্তমান ঠিকানাঃ বাসা- ৫৬, রোড- ৪, সেক্টর- ১১, উত্তরা, ঢাকা ।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বরিশাল জেলা শহরেও মো. কবির হোসেন কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে একটি অত্যাধুনিক বাড়ি নির্মাণ করছেন। এসব সম্পদের বৈধ উৎস ও আয়-ব্যয়ের সামঞ্জস্য খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
লিখিত অভিযোগে আরও বলেন, সিভিল এভিয়েশনে কর্মরত থাকার সুবাদে কবির হোসেন তদবির-বাণিজ্য ও দালালের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ করিয়ে দেওয়ার কথা বলে নিয়মিত ভাবে বিপুল অংকের অর্থ গ্রহণ করেন। অভিযোগকারী এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।
এদিকে লিখিত অভিযোগে সাংবাদিকদের ভয়- ভীতি দেখানো এবং অনুসন্ধান বন্ধের চেষ্টা করারও অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, কবির হোসেনের সম্পদের বিষয়ে সাংবাদিকরা অনুসন্ধান করতে গেলে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাস্তানি ও সন্ত্রাসের অভিযোগ তোলার মাধ্যমে ভয় -ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
অভিযোগকারী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক ক্ষতির শিকার হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর বর্তাবে। একই সঙ্গে কবির হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদের উৎস, আয়-ব্যয় এবং অভিযোগে উত্থাপিত অন্যান্য বিষয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মো. কবির হোসেনের মুঠোফোনে কল করলে তিনি কল রিসিভ করেননি। এই জন্য তার বিরুদ্ধে আনীত যত অভিযোগ করা হয়েছে সেই বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগে উত্থাপিত তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
অভিযোগকারী বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।


















