
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আওতাধীন লালবাগ থানা বিএনপির নবগঠিত কমিটিতে আজিমপুর কবরস্থানে দখল-চাঁদাবাজির অভিযোগে বহিস্কৃত নেতা চিহ্নিত ‘চাঁদাবাজ ও মাদক সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত আমিনুল ইসলাম আমিনকে আহ্বায়ক করায় ক্ষোভে ফুঁসছে দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।
এছাড়া নবগঠিত এ কমিটিতে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে আওয়ামী অনুসারীদের যুক্ত করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ জনগণ। একই সাথে বিতর্কিত ব্যক্তিকে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর জেরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু এবং সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের পদত্যাগ দাবি করেছেন তারা।
গত মঙ্গলবার (৯ জুন) লালবাগ এলাকায় আয়োজিত এক স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ থেকে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ এই দাবি জানান।
দলটির তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মী ও স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতার অভিযোগ, আমিনুল ইসলাম আমিন ও শাহবাগের সাবেক কমিশনার খাজা হাবিবকে যৌথ বাহিনির সদস্যরা ১/১১ এর সময় আজিমপুরের নতুন পল্টন লাইনের ইরাকী কবরস্থানের ভেতর ট্রাঙ্কে লুকিয়ে রাখা বিপুল সংখ্যক অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেফতার করেছিলো।
আজিমপুর কবরস্থানসহ আশপাশের এলাকায় দখল, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন অপকর্মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় তৎকালীন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু ও সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের নির্দেশক্রমে ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারী যুগ্ম আহ্বায়ক (দপ্তরের দায়িত্বে) সাইদুর রহমান মিন্টু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলের সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
আমিনের সাথে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক যোগাযোগসহ সকল কার্যক্রম থেকে সবাইকে বিরত থাকার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। ইতোপূর্বে বিভিন্ন অপরাধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতারও হয়েছেন। এমন বিতর্কিত ব্যক্তিকে লালবাগ থানা বিএনপির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের শীর্ষ দায়িত্বে নিয়ে আসায় দলটির ত্যাগী নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সমাবেশে অংশ নেওয়া দলের পদ বঞ্চিত ত্যাগী নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যাদের হাত ধরে এলাকায় মাদক ও চাঁদাবাজি প্রসারিত হয়েছে, তাদের পকেট কমিটির মাধ্যমে পুনর্বাসিত করা হচ্ছে। মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু এবং সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন নেতাদের বাদ দিয়ে নিজেদের আখের গোছাতে এই বিতর্কিত কমিটিকে অনুমোদন দিয়েছেন।
সমাবেশে তারা আরও বলেন, নবগঠিত এ কমিটিতে যুক্ত করা সোহায়েল হামজা সোহাগ, মোহাম্মদ খায়ের উদ্দীন সেন্টু কট্টর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ থেকে আগত। ২০২৪ এর ৫ আগষ্টের গণ-অভ্যুত্থানের পরে নিজেদের আওয়ামী রাজনৈতিক দলের পরিচয় গোপন রেখে লেবাস পাল্টে বিএনপির ছায়াতলে আশ্রয় নিয়ে কমিটিতে পদ বাগিয়ে নিয়েছেন নুরুন্নবী সোহেল, মীর তারেক আলী, আশরাফ হোসেন, কায়সার কিবরিয়া তুষার, শাকিল আহমেদ, আলহাজ্ব ইকবাল হোসেন ও নাসির উদ্দিন নাসির।
স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেন, কমিটি ঘোষণার আগে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও যাচাই-বাছাই না করে নিজেদের স্বার্থরক্ষায় তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে আওয়ামী অনুসারীদের দলে ঠাঁই দিয়ে মনগড়া পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে। যা দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী। এতে অদুর ভবিষতে লালবাগ থানা বিএনপিতে ঐক্যের পরিবর্তে ভাঙ্গন সৃষ্টি হতে পারে বলেও জানান স্থানীয়রা। আর সেই সুযোগটি লুফে নিবে প্রতিপক্ষ ও নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ থেকেবিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে এই পকেট কমিটি বাতিল করার জোর দাবি জানান। অন্যথায় লালবাগের সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা। একই সাথে অনৈতিকভাবে এই কমিটি দেওয়ার অপরাধে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নেতা মজনু ও রবিনের দ্রুত পদত্যাগ দাবি করেন দলটির পদ বঞ্চিত তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে জানতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দলটির নীতি নির্ধারনী পর্যায়ের অনেকেই বলেছেন, বিতর্কিত ও অপরাধে জড়িতদের দলে ঠাঁই দেওয়া হবে না। কোথাও অনিয়ম হলে প্রয়োজনে যাচাই-বাছাই করে নতুনভাবেও কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।


















