
তাওহীদ হৃদয়ের দারুণ ব্যাটিংয়ে লড়াকু পুঁজি পেয়েছিল বাংলাদেশ। বোলিংয়ের শুরুটাও হয়েছিল আশা জাগানিয়া। কিন্তু শেষ দিকে আর ধারাটা ধরে রাখা গেল না। পাকিস্তানের বিপক্ষে হেরে এশিয়াডে স্বর্ণ পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন হাওয়ায় মিলিয়ে গেল লিটন দাসদের।
নাগোয়ার করোগি স্পোর্টস পার্কে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পুরুষ ক্রিকেট ইভেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে ৬ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে পাকিস্তান। ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে জয়ী দলের বিপক্ষে আগামী শনিবার স্বর্ণ পদকের জন্য লড়বে দলটি। আর বাংলাদেশ খেলবে ব্রোঞ্জ পদক ম্যাচে। যেখানে প্রতিপক্ষ হবে দ্বিতীয় সেমিতে হেরে যাওয়া দল।
১৩ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ১১২ রানের লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের সামনে। ৯ বল হাতে থাকতেই জয় নিশ্চিত করে তারা। যদিও ৪ ওভারে ৩৮ রানে প্রতিপক্ষের ৩ উইকেট তুলে নিয়ে আশা তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। ৫৩ রানে পড়ে পাকিস্তানের চতুর্থ উইকেটও। কিন্তু পঞ্চম উইকেট জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেন হাসান নওয়াজ ও আব্দুল সামাদ। দুজনের ৩২ বলে অবিচ্ছিন্ন ৫৯ রানের জুটিতেই শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের আশা।
শেষ চার ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৩৬ রান। বাংলাদেশ অধিনায়ক আস্থা রেখেছিলেন মোস্তাফিজুর রহমানের ওপর। কিন্তু কাটার মাস্টারকে তুলোধুনো করেন সামাদ। দশম ওভারের প্রথম বলে কোনো রান নিতে পারেননি তিনি। পরের বলেই লং অন দিয়ে ছক্কা। এরপর টানা চার বাউন্ডারিতে ম্যাচ বাংলাদেশের নাগালের বাইরে নিয়ে যান এই ডানহাতি ব্যাটার।
১৫ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন সামাদ। নওয়াজ ২২ বলে দুটি করে চার ও ছক্কায় অপরাজিত ২৭ রান করেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঝলমলে রোদ থাকলেও করোগি স্পোর্টস পার্কের আউটফিল্ড সময়মতো খেলার উপযোগী হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ে শুরু হয়নি ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত এক ঘণ্টা ১৫ মিনিট পর, স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে শুরু হয় খেলা। বৃষ্টির ধাক্কায় ম্যাচ নেমে আসে ১৩ ওভারে।
১৩ ওভারের ম্যাচে যে ধরনের ঝড়ো শুরু প্রয়োজন, তার ধারেকাছেও যেতে পারেনি বাংলাদেশ। ৩.২ ওভারেই ২১ রানে নেই ৩ উইকেট। দ্বিতীয় ওভারে তানজিদ হাসান ৫ বলে ৭, তৃতীয় ওভারে লিটন দাস ৩ বলে ২ এবং চতুর্থ ওভারে ইমন ৪ বলে ১ রান করে ফেরেন।
ওপেনার সাইফ হাসান ছিলেন ব্যতিক্রম। তবে অন্য প্রান্তে একের পর এক ব্যাটার ফিরে যাওয়ায় তিনিও হাত খুলে খেলতে পারছিলেন না। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ২৩।
ষষ্ঠ ওভারে আবরার আহমেদকে পরপর দুই ছক্কায় উড়িয়ে সাইফ জানান দেন, এবার হাত খুলছেন। কিন্তু পরের ওভারেই সুফিয়ান মুকিমের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে থামতে হয় তাকে। ১৭ বলে এক চার ও দুই ছক্কায় ১৯ রান করেন এই ডানহাতি।
এরপরই বাংলাদেশের ইনিংসের হাল ধরেন হৃদয়। পাঁচ নম্বরে নেমে শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমণাত্মক। পাকিস্তানি বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে একের পর এক সীমানা ছাড়া শটে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন তিনি। ২৫ বলে চার ছক্কা ও দুই চারে ৪২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন হৃদয়।
বাংলাদেশের ইনিংস তখন শেষ প্রান্তে। করোগি স্পোর্টস পার্কে খেলা দেখতে হাজির শ দুয়েক প্রবাসী বাংলাদেশির কণ্ঠে তখন শুধু এক নাম—‘হৃদয়, হৃদয়’। হতাশার শুরু পেরিয়ে তার ব্যাটেই যেন লড়াইয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল গ্যালারি।
শেষ পর্যন্ত ১৩ ওভারে ৭ উইকেটে ১১১ রান তোলে বাংলাদেশ। শুরুতে মাত্র ২১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর এই পুঁজির বড় কৃতিত্ব হৃদয়ের। কিন্তু এই পুঁজি শেষ পর্যন্ত ফাইনালের টিকিট এনে দিতে পারেনি। পাকিস্তানের কাছে হেরে স্বর্ণের লড়াই থেকে ছিটকে গেল বাংলাদেশ। এখন লিটনদের সামনে একটাই সুযোগ— অন্তত ব্রোঞ্জ জিতে এশিয়াড শেষ করা।


















